Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন ১৬ দিনে পদার্পণ করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী, এই লড়াকু আন্দোলনের জেরে ইতিমধ্যে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৮.২৫ কেজি হ্রাস পেয়েছে(Sonam Wangchuk)। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ওয়াংচুকের রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা বারবার ৭০ mg/dL-এর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম। এর ফলে তীব্র মাথা ঘোরা, ব্যাপক পেশিক্ষয় ও চরম শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে এবং তাঁর পাঁজরের হাড় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মানবদেহে ঠিক কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব (Sonam Wangchuk)
দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকলে মানবদেহে ঠিক কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা উঠে এসেছে চিকিৎসকদের বক্তব্যে। দিল্লির সিকে বিড়লা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের কনসালটেন্ট ডক্টর অমিত প্রকাশ সিং জানান, অনশনের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীর মূলত রক্তে থাকা গ্লুকোজ এবং লিভার ও পেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। এর পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করলে ইনসুলিনের ক্ষরণ কমে এবং গ্লুকাগন হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এই প্রাথমিক ধাপে শরীর থেকে দ্রুত জল ও সোডিয়াম কমে যাওয়ার কারণে ওজন দ্রুত হ্রাস পায়। এর ফলে তীব্র মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়(Sonam Wangchuk)।
লিভারের গ্লাইকোজেন ফুরিয়ে গেলে শরীর ফ্যাটের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘লাইপোলিসিস’ (Lipolysis) বলা হয়। এর ফলে শরীরে কিটোন বডি তৈরি হয় এবং নিঃশ্বাসে এক ধরনের ফলের মতো গন্ধ পাওয়া যায়। একই সাথে লাল রক্তকণিকার গ্লুকোজের চাহিদা মেটাতে শরীর বাধ্য হয়ে পেশির প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে(Sonam Wangchuk)।
আরও পড়ুন: PoK Pak India: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চরম অশান্তি: পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের
দুই সপ্তাহের বেশি অনশন চললে হার্ট ও ফুসফুসের পেশি দুর্বল হতে থাকে। ডিহাইড্রেশন, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, নিম্ন রক্তচাপ, কিডনি বিকল হওয়া এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের (Cardiac Arrythmia) মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে(Sonam Wangchuk)। রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) বিশেষজ্ঞদের মতে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ শেষ অস্ত্র হিসেবে এই পথ বেছে নেয়, যা শরীরের ওপর চরম শারীরবৃত্তীয় ধকল তৈরি করে।



