Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কলেজ স্ট্রিট শুধু একটি রাস্তার নাম নয়, এটি বাংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয় (College Street)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই বইপাড়া ছাত্রছাত্রী, গবেষক, অধ্যাপক, লেখক এবং বইপ্রেমীদের অন্যতম ভরসার জায়গা। নতুন সরকার কলেজ স্ট্রিটকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সেই ঘোষণার পর থেকেই যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তেমনই বই ব্যবসায়ীদের মনে দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন এবং উদ্বেগ। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, উন্নয়নের বিরোধিতা নয়; বরং উন্নয়নের আগে স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার দাবিই তাঁদের প্রধান বক্তব্য।

‘আগে জানানো হোক, তারপর কাজ শুরু হোক’ (College Street)
কলেজ স্ট্রিটের দোকানদার অর্পণ মাইতির বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই উদ্বেগের ছবি। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তাঁরা। যদি নতুন পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়, তাহলে সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে ব্যবসায়ীদের জানানো প্রয়োজন। কীভাবে কাজ হবে, দোকানের অবস্থান বদলাবে কি না, ব্যবসার উপর কী প্রভাব পড়বে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তিনি বলেন, কোনও পরিকল্পনা যদি সংশ্লিষ্ট মানুষদের না জানিয়ে কার্যকর করা হয়, তাহলে তা ব্যবসায়ীদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। সেই কারণেই আগে বিস্তারিত জানিয়ে, তারপর উন্নয়নের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গুজব নয়, চাই সরকারি অবস্থান পরিষ্কার হোক (College Street)
‘দত্ত বুক ডিস্ট্রিবিউট’-এর কর্ণধার দেবাশীষ দত্তও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সরকারের উচিত বই ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসে পুরো পরিকল্পনা তুলে ধরা। এতে ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারবেন সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং তাঁদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোতে চলেছে।
বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য সামনে আসছে। কেউ বলছেন দোকান সরানো হবে, কেউ বলছেন নতুন নিয়ম চালু হবে, আবার কেউ বলছেন পুরো এলাকা আধুনিকীকরণ করা হবে। অথচ সরকারিভাবে স্পষ্ট কোনও রূপরেখা ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরা হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি এবং আশঙ্কা।

উন্নয়নকে স্বাগত, তবে ব্যবসা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় (College Street)
বই বিক্রেতাদের বক্তব্যে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট— তাঁরা উন্নয়নের বিরোধিতা করছেন না। বরং তাঁদের প্রত্যাশা, কলেজ স্ট্রিট আরও সুন্দর হোক, পথচারীদের সুবিধা বাড়ুক, যানজট কমুক, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ুক এবং আরও বেশি মানুষ বইপাড়ায় আসুন। তবে সেই উন্নয়নের ফলে যদি দীর্ঘদিনের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দোকানগুলির অবস্থান বদলে যায় অথবা ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে তা বহু পরিবারের জীবিকার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পাঠক সংখ্যা বাড়বে, না কমবে? (College Street)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন পাঠক সংখ্যা নিয়ে। একদিকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং পরিকল্পিত কলেজ স্ট্রিট তৈরি হলে সেখানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা বাড়তে পারে। পর্যটকরাও বেশি আসতে পারেন। নতুন প্রজন্মের কাছে বইপাড়া আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, যদি দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ চলে, রাস্তা বন্ধ থাকে কিংবা দোকানগুলিতে পৌঁছতে অসুবিধা হয়, তাহলে সাময়িকভাবে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ব্যবসায়ীদের মতে, উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা যাতে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
কলেজ স্ট্রিট শুধু বাজার নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়
কলেজ স্ট্রিটের গুরুত্ব শুধুমাত্র ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলার সাহিত্যচর্চা, প্রকাশনা শিল্প, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরের অন্যতম প্রতীক। প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এখানে পাঠ্যবই কেনেন। গবেষকরা দুর্লভ বইয়ের সন্ধানে আসেন। ছোট প্রকাশক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা সকলের কাছেই কলেজ স্ট্রিট একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এখানকার যে কোনও পরিবর্তন শুধুমাত্র অবকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, তা বাংলা বই শিল্পের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: Punjab Education: প্রশ্নফাঁস বিতর্কে পাঞ্জাবে রাজনৈতিক তোলপাড়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির
আলোচনার মাধ্যমেই দূর হতে পারে উদ্বেগ
বই ব্যবসায়ীদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তাঁদের প্রধান দাবি একটাই স্বচ্ছতা এবং আলোচনা। সরকার যদি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন, প্রকাশক এবং দোকানদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পরিকল্পনার খুঁটিনাটি তুলে ধরে, তাহলে গুজবের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও সহজ হবে।



