Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আর হাতে গোনা কয়েকটি মাস (Abhishek Banerjee)। তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে গোটা রাজ্যজুড়ে মাসব্যাপী ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কর্মসূচির অন্যতম অঙ্গ হিসেবে জেলায় জেলায় ‘রণসংকল্প সভা’ করছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সেই কর্মসূচির মঞ্চ বসে আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানে। চা শ্রমিক অধ্যুষিত এই জনপদ থেকেই নির্বাচনী বার্তার পাশাপাশি একাধিক সামাজিক-অর্থনৈতিক ইস্যুতে বড় ঘোষণা করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

চা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি (Abhishek Banerjee)
সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি (Abhishek Banerjee)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন, বর্তমান ২৫০ টাকা দৈনিক মজুরিতে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সব কিছুর কথাই তুলে ধরেন তিনি। অভিষেক বলেন, “আমি জানি আড়াইশো টাকায় সংসার চলে না। আলু, সবজি, পোশাক, জুতো, বাড়ি তৈরির জিনিস সবকিছুর দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে এই মজুরি যথেষ্ট নয়।” এর পরেই আসে সভার সবচেয়ে বড় ঘোষণা, চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠিত হলে চা বাগানে দৈনিক মজুরি অন্তত ৩০০ টাকা করার চেষ্টা করা হবে। এই লক্ষ্যে বাগান মালিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অতীতের তুলনা টেনে সরকারের ভূমিকা (Abhishek Banerjee)
চা শ্রমিকদের উদ্দেশে অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১১ সালে তৃণমূল প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৬৭ টাকা। দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মরে যাব, তবু মিথ্যে কথা বলব না। আগে ২৩২ টাকা ছিল, এখন ২৫০ টাকা হয়েছে। কিন্তু আরও বাড়ানো দরকার এটা আমি নিজেও মানি।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে বাস্তবতার স্বীকৃতি, অন্যদিকে ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন অভিষেক।

শ্রমিক জীবনের নিত্য সমস্যা (Abhishek Banerjee)
সভায় একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসে চা বাগান এলাকার দৈনন্দিন সমস্যাগুলি নিয়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকা, অ্যাম্বুল্যান্সের সমস্যা এসব অভিযোগের জবাবে অভিষেক জানান, আগামী দু’ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নত করার চেষ্টা করা হবে। এক চা শ্রমিক সঙ্গীতা ওঁরাও জানান, সন্তান জন্মের পরও উপযুক্ত ক্রেশ না থাকায় শিশু পিঠে বেঁধেই কাজ করতে হচ্ছে। উত্তরে অভিষেক বলেন, “৩৪টি ক্রেশ ইতিমধ্যেই চলছে। বাকিগুলিও আগামী দু’ বছরের মধ্যে পুরোপুরি পরিষেবা দিতে শুরু করবে।” তিনি স্বীকার করেন, চা পাতা তুলতে তুলতে কাজ করা কতটা কঠিন—তা তিনি বোঝেন এবং এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
উদ্বেগের জবাব (Abhishek Banerjee)
সভায় উঠে আসে এসআইআর সংক্রান্ত উদ্বেগও। বিদেশে কর্মরত এক শ্রমিকের স্ত্রী অভিযোগ করেন, শুনানিতে হাজির না হতে পারলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক স্পষ্ট বলেন, “এভাবে কারও নাম জোর করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।” তিনি অনলাইনে ফর্ম পূরণ, বৈধ নথি জমা এবং প্রয়োজনে নির্বাচন আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে আশ্বাস দেন, তৃণমূলের শিবিরে গেলে সহযোগিতা মিলবে।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
রাজনৈতিক ভাষণেও ছিলেন অভিষেক আগ্রাসী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ শানান তিনি।
১০০ দিনের কাজের টাকা পাঁচ বছর ধরে বন্ধ, নোটবন্দি, এসআইআর সবকিছুকেই কেন্দ্রের বঞ্চনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যতই ইডি-সিবিআই লাগাও, তৃণমূল জিতবে।” এছাড়াও বিজেপি সাংসদদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তোলেনআন্দোলন, চিঠি বা সংসদে প্রশ্ন কোথায়?
আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
‘আলিপুরদুয়ারে পাঁচে পাঁচ’
সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনেই আলিপুরদুয়ারের প্রতিদান দিতে হবে। তাঁর কথায়, “সব বুথে জোড়াফুল ফোটাতে হবে। বিজেপিকে উৎখাত করলেই আলিপুরদুয়ার এগোবে।” ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে সভা শেষ হলেও বার্তাটি স্পষ্ট এই কর্মসূচি শুধুই সভা নয়, বরং ভোটের আগে জনসংযোগ ও প্রতিশ্রুতির রাজনৈতিক কৌশল।



