Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাজের সন্ধানে বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বাসিন্দা অসিত সরকার ও গৌতম বর্মন (Abhishek Banerjee)। প্রায় দুই দশক ধরে ভিনরাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তাঁরা। কিন্তু আচমকাই তাঁদের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সাত মাস জেলে কাটাতে হয় তাঁদের। পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, পরিচয়ের সংকটে আটকে পড়ে মানবাধিকারের এক নির্মম গল্প। সেই যন্ত্রণার অধ্যায় শেষ করে সম্প্রতি ঘরে ফিরেছেন তাঁরা। বুধবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অসিত সরকারের বাড়িতে অভিষেক (Abhishek Banerjee)
বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে অসিত সরকারের বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে গ্রেপ্তার, কীভাবে জেলে দিন কেটেছে, পরিবার কীভাবে দিন গুনেছে সবটাই মন দিয়ে শোনেন তিনি। অভিষেক জানান, “আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী আইনগত সাহায্য ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছিলাম। তবে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয় সাড়ে তিন-চার মাস পরে। তবু চেষ্টা থামাইনি।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই উঠে আসে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার প্রশ্ন।
বিজেপি সাংসদকে তীব্র কটাক্ষ (Abhishek Banerjee)
এরপরই বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদকে একহাত নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমার লোকসভা কেন্দ্রের দু’জন গরিব মানুষ ২০ বছর ধরে মহারাষ্ট্রে কাজ করছেন। সমস্যায় পড়লে তাঁদের স্ত্রীরা সাহায্য চাইছেন। আমার কি এতটুকু দায়বদ্ধতা নেই যে আমি দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে ফোন করব না? তাঁর সরকারকে বলব না যে ভুলবশত বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জেলে ঢোকানো হয়েছে?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “এখানে তৃণমূল-বিজেপি কীসের? এটা তো মানুষের প্রশ্ন।” এই বক্তব্যে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে মানবিক কর্তব্যের প্রসঙ্গই সামনে আসে।
বন্দিদশার ভয়াবহ স্মৃতি (Abhishek Banerjee)
অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে অসিত সরকার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে সাত মাস জেল খেটেছি। কী কষ্ট পেয়েছি, তা একমাত্র আমরা জানি।” গৌতম বর্মনও একই সুরে জানান দীর্ঘ কারাবাসের কথা। পাশাপাশি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “আমি বিজেপির কর্মী ছিলাম। আমার স্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কাছে গিয়েছিল। সেখানেও কোনও কাজ হয়নি।” এই মন্তব্য রাজনীতির ভিতরেই দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে ধরে।

SIR আতঙ্কের অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
বালুরঘাটে পৌঁছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করেন ওসমান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের অভিযোগ, SIR (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিক আতঙ্কে ভুগছিলেন ওসমান মোল্লা। সেই আতঙ্কই তাঁর মৃত্যুর কারণ। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অভিষেক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ভোটার আইডি ও ভোটার তালিকায় সামান্য নামের অমিলের জন্য SIR নোটিস আসার পর থেকেই তিনি ভয় পেতে শুরু করেন। রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল।” এই ঘটনা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
আরও পড়ুন: Sweater Tips: শীতে একই সোয়েটার কতদিন পরা উচিত?
স্কুলে অভিষেক
অসিত সরকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাড়ি থামান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। ছোটদের হাতে চকোলেট তুলে দেন। খুদে পড়ুয়ারা গোলাপ ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় সাংসদকে। এই মুহূর্ত যেন রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে গিয়ে এক মানবিক ছবি তুলে ধরে যেখানে ক্ষমতা নয়, সম্পর্কই মুখ্য।



