Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন সেই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে সামাজিক মাধ্যমেও (AI Content)। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, যুদ্ধ সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের আবহে গুজবের ছড়াছড়ি (AI Content)
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তদন্তে দেখা গেছে, এই ভিডিওগুলির অনেকই আসলে পুরোনো ঘটনার ফুটেজ বা অন্য দেশের ঘটনা। কিন্তু সেগুলিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের দৃশ্য বলে প্রচার করা হচ্ছিল। কিছু ক্ষেত্রে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ ভুয়ো বিস্ফোরণ বা হামলার ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। সেই ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করা হয় যে সেগুলো যুদ্ধের সাম্প্রতিক ঘটনা। এর ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারি তদন্তে কী জানা গেল (AI Content)
এমিরেটস নিউজ এজেন্সি ‘ডব্লিউএএম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে, বহু পোস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। প্রথমে দু’জন ভারতীয়-সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারির নির্দেশ জারি হয়। পরে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম দফায় যাঁদের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি, একজন নেপালি, দু’জন ফিলিপিন্সের নাগরিক এবং একজন মিশরের বাসিন্দা ছিলেন।

এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো ভিডিও (AI Content)
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কিছু অভিযুক্ত বাস্তব ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন। আবার কেউ কেউ এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বিস্ফোরণ, আগুন বা হামলার দৃশ্য তৈরি করেছেন। এই ভিডিওগুলিতে দাবি করা হয় যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে বা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আগুন লেগেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
প্রশাসনের কড়া বার্তা (AI Content)
UAE-এর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি এক বিবৃতিতে জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ও কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ভুয়ো তথ্য তৈরি করা হয়েছে। তাই এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
কঠোর আইন ও শাস্তির বিধান (AI Content)
সংযুক্ত আরব আমিরাত -এর আইনে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো একটি গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে যুদ্ধ বা নিরাপত্তা সংকটের সময়ে এমন কাজ দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করা হয়। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি ন্যূনতম ১,০০,০০০ দিরহাম জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়ছে
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু দেশই সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়িয়েছে। ভুয়ো খবর বা যাচাই না করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। এই কারণেই বিভিন্ন দেশের প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে যাচাই না করা কোনও তথ্য বা ভিডিও শেয়ার না করার জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের সময়ে তথ্যযুদ্ধ বা “ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার” একটি বড় বাস্তবতা, যেখানে ভুয়ো খবর দ্রুত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



