Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশে বিমানযাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। রেলপথের বিকল্প হিসেবে বহু মানুষই এখন বিমানে যাতায়াতকে বেছে নিচ্ছেন (Air India and IndiGo)। কিন্তু সেই আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের লোকসভায় পেশ করা সাম্প্রতিক রিপোর্ট। পরীক্ষানিরীক্ষা হওয়া প্রায় ৭৫০টিরও বেশি বিমানের মধ্যে প্রায় ৪০০টি বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

কী বলছে কেন্দ্রের রিপোর্ট? (Air India and IndiGo)
কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ পরীক্ষানিরীক্ষায় এখনও পর্যন্ত ছ’টি বিমান সংস্থার মোট ৭৫৪টি বিমান খতিয়ে দেখা হয়েছে। তার মধ্যে ৩৭৭টি বিমানে এমন ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা একবার ঠিক করার পরেও আবার ফিরে এসেছে। কোথাও সম্পূর্ণ মেরামত হয়নি, আবার কোথাও সাময়িক সমাধানের পর একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কি যথাযথভাবে করা হচ্ছে?
কার অবস্থান কোথায়? (Air India and IndiGo)
সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি বিমান পরীক্ষা হয়েছে ইন্ডিগোর। গত ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংস্থাটির ৪০৫টি বিমান পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১৪৮টিতে ত্রুটি ধরা পড়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৩৬ শতাংশ বিমানে সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে শতাংশের নিরিখে এগিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া। তাদের ২৬৭টি বিমানের মধ্যে ১৯১টিতেই ত্রুটি পাওয়া গেছে যা প্রায় ৭২ শতাংশ। এই হার নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তালিকায় স্পাইসজেট ও আকাসা এয়ারলাইন্সের নামও রয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি মানেই কি বিপদ? (Air India and IndiGo)
এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। সব যান্ত্রিক ত্রুটি মানেই যে বিমান ‘বিপজ্জনক’, তা নয়। কোনও বিমানের আসন ভাঙা, টিভি স্ক্রিন খারাপ থাকা বা কেবিনের ছোটখাটো সমস্যাকেও এই ত্রুটির তালিকায় ধরা হয়েছে। এই কারণেই ত্রুটির গুরুত্ব অনুযায়ী চারটি আলাদা তালিকা তৈরি করেছে কেন্দ্র। একেবারে সামান্য ত্রুটিগুলি রাখা হয়েছে শেষের তালিকায়। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, তাদের বিমানে ধরা পড়া অধিকাংশ সমস্যাই এই কম গুরুত্বের তালিকাভুক্ত। সংস্থার এক আধিকারিকের বক্তব্য, “এই ধরনের ত্রুটিতে বিমান দুর্ঘটনার কোনও সম্ভাবনা নেই।”
তাহলে প্রশ্ন উঠছে কোথায়? (Air India and IndiGo)
বিতর্কটা আসলে অন্য জায়গায়। কোনও ত্রুটি বিপজ্জনক না হলেও, যদি সেটি বারবার ধরা পড়ে, তাহলে তার স্থায়ী সমাধান কেন করা হচ্ছে না এই প্রশ্নই উঠছে। একটি আসন ভাঙা থাকলে তা হয়তো প্রাণঘাতী নয়, কিন্তু সেটি বারবার ঠিক না হওয়া যাত্রী পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান সংস্থাগুলি খরচ কমানোর চাপে অনেক সময় সাময়িক মেরামতের দিকেই ঝোঁকে। এতে ত্রুটি ফিরে আসে, আর রিপোর্টে সেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।
আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
যাত্রী আস্থার প্রশ্ন
বিমান দুর্ঘটনার আশঙ্কা না থাকলেও, এই ধরনের রিপোর্ট যাত্রীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভয় ও অনাস্থা তৈরি করে। যাঁরা নিয়মিত বিমানে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিষেবার মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বারবার ত্রুটি ধরা পড়া মানে শুধু যন্ত্রের সমস্যা নয় এটি ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে ধরে।



