Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটা সময় ছিল, ভালো ভবিষ্যতের একমাত্র রাস্তা মানেই সরকারি বা কর্পোরেট চাকরি (Content Creator Lab)। কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে প্রজন্মের ভাবনাও। আজকের জেন জি প্রজন্ম স্থায়িত্বের থেকেও স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা নিজের পছন্দের কাজ করতে চায়, নিজের মতো করে উপার্জন করতে চায়। সেই কারণেই প্রথাগত চাকরির গণ্ডি ভেঙে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন আজ ভারতের তরুণদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় বিকল্প আয়ের পথ হয়ে উঠেছে।ফেসবুক রিল, ইনস্টাগ্রাম রিল, ইউটিউব ভ্লগ, শর্ট ভিডিও কিংবা পডকাস্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের ভাবনা, গল্প কিংবা দক্ষতা তুলে ধরে লক্ষ লক্ষ তরুণ আজ অর্থ উপার্জন করছে। এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়েই এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব (Content Creator Lab)
বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ১৫০০টি সেকেন্ডারি স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে গড়ে তোলা হবে এবিজিসি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব। এই ল্যাবগুলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, অ্যানিমেশন, ভিস্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিক্স ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কেবল কন্টেন্ট বানানো নয়, ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত নানা কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে জেন জি প্রজন্ম।এতে স্পষ্ট, সরকার প্রথমবারের মতো কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি: সুযোগ না কি নিয়ন্ত্রণ? (Content Creator Lab)
এই ল্যাবের মাধ্যমে দেশের তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই। বিশেষত গ্রাম ও মফস্বলের ছাত্রছাত্রীরা যারা এতদিন সুযোগের অভাবে পিছিয়ে ছিল, তাদের কাছে এটি একটি বড় সুযোগ। তবে এখানেই উঠে আসছে একটি মৌলিক প্রশ্ন, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন কি আদৌ প্রথাগত শিক্ষার কাঠামোর মধ্যে ফেলা যায়? কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের প্রাণ হল মৌলিকতা, স্বাধীন ভাবনা ও ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি। একে যদি সিলেবাস, নিয়ম, মূল্যায়নের মধ্যে আনা হয়, তাহলে কি সেই স্বাতন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই?

নতুন সমীকরণ (Content Creator Lab)
জেন জির বিকল্প আয়ের পথে শুধু কন্টেন্ট ক্রিয়েশন নয়, পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের ২০টি পর্যটন কেন্দ্রে, ১০ হাজার ট্যুর গাইডকে, ১২ সপ্তাহব্যাপী সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, এই প্রশিক্ষণে যুক্ত থাকবে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট এছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, আরাকু ভ্যালির মতো পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা হবে ট্রেকিং সহায়ক পরিকাঠামো। বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজও কর কমার ফলে সস্তা হতে চলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ট্র্যাভেল ভ্লগার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর। উন্নত পরিকাঠামো ও কম খরচ মানেই আরও বেশি কন্টেন্ট, আরও বেশি রিচ।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্বেগ (Content Creator Lab)
এই ঘোষণার পর বাংলার জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলাম গুপ্তা বলেন, “নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাজ। সেটার ক্ষেত্রে যদি কিছু নিয়মাবলীর মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাহলে মৌলিক কাজ ধাক্কা খাবে।” এই বক্তব্যেই ধরা পড়ছে আসল উদ্বেগ। প্রশ্ন উঠছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন কি ভবিষ্যতে সরকারের নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে ঢুকে পড়বে? রাষ্ট্র কি এই মাধ্যমকে নিজেদের ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকবে? যেখানে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মূল শক্তিই হল ব্যক্তিস্বাধীনতা, সেখানে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সেই শক্তিকেই দুর্বল করতে পারে।

আরও পড়ুন: Anandapur Fire: শুভেন্দুর প্রতিবাদ মিছিলে ডিজের তালে ‘উদ্দাম’ নাচ! পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
দুইয়ের ভারসাম্য
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময়। দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রয়োজন সতর্কতা। কন্টেন্ট ক্রিয়েশন যেন শুধুমাত্র আরেকটি চাকরি হয়ে না দাঁড়ায়। যেন সৃজনশীলতা পরীক্ষার খাতায় বন্দি না হয়। যেন স্বাধীন কণ্ঠস্বরের জায়গা সংকুচিত না হয়।



