Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সংবিধান দিবস এবং ড. বি.আর.আম্বেদকরের জন্মদিনে রেড রোডে বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন আম্বেদকর ছিলেন সংবিধানের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান(Ambedkar)। তিনি অবিভক্ত বাংলা থেকে নির্বাচিত হন—এটা আমাদের জন্য গর্বের, কারণ এই ইতিহাস অনেকেই জানেন না। আজ যখন গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আক্রমণের মুখে, নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—তখন আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করতে হয়: এখন কি আমাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? এর পেছনে এনআরসি কাজ করছে। আমরা এতে স্তম্ভিত ও দুঃখিত। তাই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে ভারতের গণতন্ত্র রক্ষা করার শপথ নিচ্ছি, যা সবচেয়ে বড়।
বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার (Ambedkar)
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় আছে তাদের দয়ায় আমরা স্বাধীনতা পাইনি; আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য। স্বাধীনতার জন্য যারা লড়েছিলেন তাদের ৯০% ছিলেন বাঙালি, আর পাঞ্জাবও সবচেয়ে বড় অবদানকারী রাজ্যগুলোর একটি। ভারতকে নবজাগরণ ও বিপ্লব উপহার দিয়েছিল এই বাংলা। এখন আমি প্রস্তাবনাটা (Preamble) পড়ছি।
‘বাংলার পরিচয় কি মুছে দিতে চাইছে?’ (Ambedkar)
এদিন মমতা বলেন, আমি দেখছি সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে যে, আমরা সংসদে ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ বলতে পারব না—যদিও এটা সত্য কিনা আমি জানি না এবং আমি এবিষয়ে সাংসদদের সঙ্গে কথা বলব। তারা কি বাংলার পরিচয় মুছে দিতে চাইছে? আমরা ভারতের অংশ এবং আমরা গর্বিত যে বাংলা বরাবরই লড়েছে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের জন্য। আজ আমরা মর্মাহত যে, গণতান্ত্রিক অধিকার মানুষের থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে দেশজুড়ে বিভাজন বাড়ছে। মানুষ অত্যাচারিত হচ্ছে। যারা SIR-এর কারণে মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগই হিন্দু। আমরা সবাই এক, এটা মনে রাখতে হবে।
মমতার CAA, SIR তোপ (Ambedkar)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নাগরিকত্বের প্রশ্নে মানুষকে মৃত্যুর দোরগোড়ায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যারা কালও ঢাক বাজাচ্ছিল, তারা কাঁদতে কাঁদতে আমাকে বলছে—আমি যেন তাদের বাঁচাই। যারা এই ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করছে, সেটা লজ্জার! বিহারে মানুষের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটা বিজেপির কৌশল, ভোটের পর লুট করা। আমাদের এসবের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।
আরও পড়ুন: EC SIR: রাজ্যে SIR-এ ১৪ লক্ষ ফর্ম বাতিল: উঠছে ফর্ম নিয়ে একাধিক অভিযোগও
কমিশনকে কটাক্ষ মমতার (Ambedkar)
মমতার প্রশ্ন কেন বিএলও-দের ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে শুধু নিজেদের কথা বলার জন্য? এটা কেমন ঔদ্ধত্য? নির্বাচন কমিশন আমাদের পক্ষ থেকে চারজনের বেশি প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করছে না। আমরা বলেছি, আমরা ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠাব। কেন? এখন কি ওরা ঠিক করবে কার কার সঙ্গে দেখা যাবে? বিএলও-দের প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেন, তিন বছরের কাজ দু’মাসে কীভাবে করবেন? এখন চাষাবাদের মরসুম। গণনা ফর্ম বিতরণের যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তাও ভুল। আমরা সংবিধান মানব এবং তার হিসেবেই কাজ করব। তিনি বলেন সব মৃত্যুর রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশে বিএলও মৃত্যুর দায় কার? সেখানে বিজেপি ক্ষমতায়। তারা এত তাড়াহুড়ো করে SIR চালাচ্ছে কেন? তারা কি সাধু? তারা বিএলও-দের চাকরি কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কমিশনকে প্রশ্ন, যখন আপনারা অন্যদের ভয় দেখাচ্ছেন—তখন আপনাদের চাকরি বাঁচাবে কে?



