Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শচীন-দ্রাবিড়ের যুগে ব্রাত্য ছিলেন। কিন্তু আজ মেয়েদের বিশ্বজয়ের নেপথ্য নায়ক তিনি। চিনে সেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই ‘দ্রোণাচার্য’কে (Amol Muzumdar)।
রঞ্জি ট্রফির অভিষেকে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি (Amol Muzumdar)
গতকাল ভারতের গর্বের দিন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। মেয়েদের বিশ্বকাপে প্রথমবার ট্রফি জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেলল হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-এর টিম ইন্ডিয়া। তাদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। তাদের সাফল্যে যখন মাতোয়ারা গোটা দেশ তখন ব্যাকস্টেজে চোখের জল ফেলেছিলেন একটা মানুষ। ভারতের মেয়েদের দলের সাফল্যের অন্যতম কারিগর। তিনি হলেন দলের কোচ অমল মজুমদার (Amol Muzumdar)।
ঘরোয়া ক্রিকেটে আপাদমস্তক সফল হয়েও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণীয় একজন ব্যক্তিত্ব কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ হয়নি তাঁর। মুম্বইয়ের ক্রিকেট জগতে বেড়ে ওঠা, মুজুমদার কিংবদন্তি কোচ তথা শচীন তেন্ডুলকরের কোচ রমাকান্ত আচরেকরের অধীনে শারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরে ছিলেন। বেশ কয়েক বছর ছিলেন শচীনের সঙ্গী। তাঁর ধ্রুপদী ব্যাটিং স্টাইল তাঁকে করে তুলেছিল বাকিদের থেকে আলাদা। তাঁর কৃতিত্ব ছিল অসাধারণ (Amol Muzumdar)। ১৯৯৩-৯৪ সালে হরিয়ানার বিপক্ষে মুম্বইয়ের হয়ে ১৯ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফির অভিষেকেই বিশ্বরেকর্ড গড়েন অমল মজুমদার। ২৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিঁনি। যা প্রায় ২৫ বছর ধরে টিকে ছিল। পরবর্তী সময়ে মুম্বই ক্রিকেটের হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠেন তিঁনি। ৪৮.১৩ গড়ে ১১,১৬৭ প্রথম-শ্রেণির রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৩০টি সেঞ্চুরি। দীর্ঘদিন রঞ্জি ট্রফিতে রান সংগ্রহের রেকর্ড অক্ষত ছিল।

২০০৬-০৭ মরশুমে অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে বাংলাকে হারিয়ে মুম্বইকে তাদের ৩৭তম রঞ্জি শিরোপা এনে দেন (Amol Muzumdar)। কিন্তু সেই সময়ে তেন্ডুলকর, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণ এবং গাঙ্গুলিদের আধিপত্যের যুগে, ভারতীয় মিডল অর্ডারে কোনও জায়গা ছিল না তাঁর। এমনকী ইন্ডিয়া এ-তে সেঞ্চুরি এবং ধারাবাহিকভাবে ১,০০০ রানের মরশুম কাটানো একজন খেলোয়াড় হয়েও।

আরও পড়ুন: Rohit Sharma: মেয়েদের বিশ্বকাপে ‘হিটম্যান’ যেন ‘চক দে ইন্ডিয়া’র কবীর খান
তাঁর গল্প ভুল সময়ে জন্মানো এক ধ্রুপদী উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। সেই অমল মজুমদার আবার উঠে আসেন চর্চায়। এবার তিনি গুরু দ্রোণের ভূমিকায়। তাঁর অধীনে তৈরি হওয়া ছাত্রীরা নিপুণ লক্ষভেদে তাঁর জন্য দিয়ে এলেন সঠিক গুরুদক্ষিণা। আর তাই তো তারপরেই বিশ্বজয়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে হেড কোচ অমল মমজুমদারের পা ছুঁতে দেখা যায় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরকে। যা ক্যামেরায় ধরা পড়ে (Amol Muzumdar)।


