Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : কাতারের রাজধানী দোহায় সম্প্রতি বসেছিল ৪০টিরও বেশি আরব ও ইসলামিক দেশের বৈঠক(Arab Islamic Countries Summit)। মূলত ইজরায়েলের গাজা হামলার নিন্দা ও প্রতিরোধই ছিল এই সম্মেলনের ঘোষিত উদ্দেশ্য। তবে সম্মেলনে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশের উপস্থিতি এবং সক্রিয়তা ভারতের কাছে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের অবস্থান (Arab Islamic Countries Summit)
সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার সরাসরি ইজরায়েলকে (Benjamin Netanyahu) দোষারোপ করে বলেন, “ইসলামিক দেশগুলিতে আক্রমণ ও মানুষ হত্যা করার পর কোনও ভাবেই পার পেতে পারে না ইজরায়েল(Arab Islamic Countries Summit)।” শুধু তাই নয়, পাকিস্তান প্রস্তাব তোলে একটি ‘আরব-ইসলামিক টাস্ক ফোর্স’ গঠনের, যারা ইজরায়েলি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সমর্থন করারও আশ্বাস দেয় ইসলামাবাদ।
তুরস্কের ভূমিকা (Arab Islamic Countries Summit)
নেটোর অন্যতম শক্তিশালী সদস্য তুরস্কও সম্মেলনে ইজরায়েল-বিরোধী অবস্থান নেয়। তবে তারা কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আর্থিক চাপ সৃষ্টির দাবি তুলেছে। ভারতের কূটনৈতিক মহলে এর তাৎপর্য খুঁজে দেখা হচ্ছে, কারণ তুরস্ক অতীতে একাধিকবার কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন : Israel Hamas Conflict : শুধু আকাশপথ নয়, এ বার স্থলবাহিনীও গাজায় প্রবেশ! গাজা ছাড়ছেন দলে দলে মানুষ
ভারতের সম্ভাব্য উদ্বেগ(Arab Islamic Countries Summit)
এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদ হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের উপস্থিতি ভারতের জন্য কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে(Arab Islamic Countries Summit)।
- ইসলামাবাদ চাইবে এই সম্মেলনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাশ্মীর সমস্যাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে।
- ভবিষ্যতে যদি নেটোর ধাঁচে কোনও আরব-ইসলামিক সামরিক জোট গড়ে ওঠে, তবে পাকিস্তান ভারতের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ—বিশেষ করে জঙ্গিদমন—কে ‘আক্রমণ’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করতে পারে।
- ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : Khalistan Movement : কানাডায় ভারতীয় কনস্যুলেটকে ‘অবরোধ’! নতুন করে শুরু খালিস্তানি আন্দোলন
ভারতের পক্ষে ইতিবাচক দিক
তবে ভারতের হাতে ‘তুরুপের তাস’ও রয়েছে(Arab Islamic Countries Summit)। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও মিশরের মতো প্রভাবশালী আরব দেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক বর্তমানে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি সহযোগিতায় এই দেশগুলি ভারতের অন্যতম অংশীদার। ফলে তারা পাকিস্তানের প্রস্তাবের প্রতি অতটা ইতিবাচক হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
দোহা সম্মেলন আপাতত ইজরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে হলেও এর মধ্য দিয়ে একটি আরব-ইসলামিক সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা ভারতের কাছে কূটনৈতিক চাপের কারণ হতে পারে। তবে সৌদি, ইউএই ও মিশরের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক এই চাপকে অনেকটাই সামাল দিতে পারে। তাই পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের এখন কৌশলগত সতর্কতার পাশাপাশি আরব দুনিয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি


