Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় চলচ্চিত্রসঙ্গীতের ইতিহাসে এমন কিছু কণ্ঠস্বর থাকে, যাদের সঙ্গে একটি সময়, একটি প্রজন্ম জড়িয়ে যায় (Arijit Singh)। অরিজিৎ সিং ঠিক তেমনই এক নাম। প্রেমে পড়া, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব কিংবা নিঃশব্দ বিষাদ সব আবেগের ভাষা হয়ে উঠেছিল তাঁর গান। সেই অরিজিৎ সিং আচমকাই জানালেন, তিনি আর সিনেমার জন্য প্লেব্যাক গান গাইবেন না। এই ঘোষণা নিছক একটি কেরিয়ার সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা ভারতীয় জনপ্রিয় সঙ্গীতের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানার ইঙ্গিত।

আচমকা ঘোষণায় কেন এত আলোড়ন? (Arijit Singh)
কারণ একটাই, অরিজিৎ সিং শুধুই একজন সফল গায়ক নন, তিনি একটি যুগ। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বলিউডের প্রায় প্রতিটি বড় প্রেমের গল্পে, প্রতিটি ভাঙা হৃদয়ের দৃশ্যে তাঁর কণ্ঠ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এমন অবস্থায় তাঁর প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা শ্রোতাদের কাছে কার্যত বিশ্বাসযোগ্য ঠেকছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় বারবার ফিরে আসছে প্রশ্ন, “এটা কি সত্যি? নাকি কোনও ভুল বোঝাবুঝি?”
সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তা (Arijit Singh)
অরিজিৎ সিং নিজেই তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি গান ছাড়ছেন না, বরং প্লেব্যাক নামক কাঠামো থেকে নিজেকে মুক্ত করছেন। তাঁর লেখায় ধরা পড়েছে এক ধরনের কৃতজ্ঞতা, শান্তি এবং আত্মসমীক্ষার সুর। তিনি নিজেকে বড় তারকা নয়, বরং “একজন ছোট শিল্পী” হিসেবে দেখতে চান এই কথাটিই তাঁর মানসিক অবস্থার সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত। শিল্পীর জীবনে এমন মুহূর্ত আসে, যখন জনপ্রিয়তার শিখরে দাঁড়িয়েও তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন, আমি কি এখনও নিজের জন্য গান গাইছি?
ফেম গুরুকুল থেকে ফিল্মফেয়ার (Arijit Singh)
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’-এর মঞ্চে এক লাজুক, সংযত তরুণ হিসেবে যাত্রা শুরু। প্রতিযোগিতা জেতেননি, আলোচনার কেন্দ্রেও ছিলেন না। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’-এর ‘ফির মহব্বত’ গানটি যেন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তারপর একে একে, ‘তুম হি হো’, ‘চন্না মেরেয়া’, ‘আগর তুম সাথ হো’, ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’, এই গানগুলির সঙ্গে শুধু সিনেমা নয়, জড়িয়ে আছে লক্ষ মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি।

প্লেব্যাক বনাম স্বাধীন সৃষ্টিশীলতা (Arijit Singh)
প্লেব্যাক সিস্টেমে গায়ক অনেক সময়ই পরিচালকের ভাবনা, ছবির প্রয়োজন ও বাণিজ্যিক চাহিদার মধ্যে বাঁধা পড়ে যান।
অরিজিতের ঘোষণার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, তিনি সম্ভবত সেই বাঁধন ছাড়িয়ে যেতে চাইছেন। নিজস্ব সুর, নিজস্ব কথা, নিজের সময়ে গান তৈরি করার স্বাধীনতা, এই আকাঙ্ক্ষাই হয়তো তাঁকে অন্য পথে ডাকছে। এটা কোনও অবসর নয়, বরং সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার দিকে যাত্রা।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
সম্মান, সাফল্য ও তৃপ্তির প্রশ্ন
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক ফিল্মফেয়ার, পদ্মশ্রী, সম্মানের দিক থেকে অরিজিৎ সিং আজ পূর্ণ। কিন্তু শিল্পীর তৃপ্তি কি শুধুই পুরস্কারে? সম্ভবত এখানেই তাঁর সিদ্ধান্তের মূল। যখন শিল্পী মনে করেন, জনপ্রিয়তার ভার সৃষ্টিকে ঢেকে দিচ্ছে, তখন তিনি থামেন নতুনভাবে শুরু করার জন্য। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘোষণায় কোটি কোটি অনুরাগীর মন ভারী। কারণ সিনেমার পর্দায় আর নতুন কোনও প্রেমের দৃশ্যে অরিজিতের কণ্ঠ শোনা যাবে না, এই ভাবনাই কষ্ট দিচ্ছে। তবু আশার কথা একটাই, তিনি গান তৈরি বন্ধ করছেন না। চলতি বছরেও কিছু নতুন গান আসবে। হয়তো সেগুলো হবে আরও ব্যক্তিগত, আরও গভীর, আরও মুক্ত।



