Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্মকে হাতিয়ার করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের অস্থিরতার বার্তা দিলেন পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল আসিম মুনির (Asim Munir)। সম্প্রতি লিবিয়া সফরে গিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি যে ভাষণ দেন, তা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ওই ভাষণে আল্লার নাম করে ‘শত্রুদের হৃদয়ে ত্রাস সৃষ্টি’র ডাক দেন পাক সেনাপ্রধান যা অনেকের কাছেই সরাসরি উসকানি বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ (Asim Munir)
জনসভায় আসিম মুনির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গোটা মুসলিম বিশ্ব আজ সংকটের মুখে। তাঁর দাবি, গত দুই দশকে ৭ থেকে ৮টি “সুন্দর মুসলিম রাষ্ট্র” ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মুনিরের মতে, এই ধ্বংসের জন্য দায়ী সেই সব শক্তি, যারা মুসলিমদের পতন চায় এবং প্রতারণা, কূটনৈতিক চাল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই বক্তব্যে তিনি সরাসরি ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বদলে ‘মুসলিম বনাম শত্রু’ বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা স্পষ্ট।
বিতর্কের কেন্দ্রে সেনাপ্রধানের বক্তব্য (Asim Munir)
ভাষণের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে মুনির বলেন, “আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সেই সব লোকেদের হৃদয়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে হবে যারা আল্লার শত্রু। আমাদের শত্রু। তাঁদের সবাইকে আমরা না চিনলেও আল্লা চেনেন।” এই বক্তব্যকে অনেকেই চরমপন্থী ভাবনার প্রতিফলন বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের একজন সেনা কর্তাব্যক্তির মুখে এ ধরনের ভাষা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত বহন করে এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।
প্রযুক্তি চুরির অভিযোগ (Asim Munir)
মুনিরের ভাষণে উঠে আসে আরও এক অভিযোগ। তাঁর দাবি, মুসলিম দেশগুলি আজ দুর্বল হয়ে পড়ছে কারণ অন্যান্য দেশ তাদের প্রযুক্তি চুরি করেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য বা উদাহরণ তিনি দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার দায় বাইরের শক্তির ঘাড়ে চাপানোর এই প্রবণতা পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন নয়।
কূটনীতি না প্রভাব বিস্তার? (Asim Munir)
সভায় নিজের দেশের ‘মহত্ব’ তুলে ধরে মুনির বলেন, “পাকিস্তানের কাছ থেকে আপনাদের যে কোনও ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হলে আমরা তা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেব।” এই বক্তব্যকে অনেকেই কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে লিবিয়ার মতো অস্থির দেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই মন্তব্য পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আরও পড়ুন: Metro Rail: চিংড়িহাটায় মেট্রোর কাজে জট: রাজ্যকে ভর্ৎসনা, ডেডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
যদিও এখনও পর্যন্ত এই ভাষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বহু রাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে কূটনৈতিক মহলে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ধর্মের নামে সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন নয়। এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানকে আরও একঘরে করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



