Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশ আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল। বৃহস্পতিবার ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে সকাল ৬টা ১৪ মিনিটে হঠাৎই কম্পনে কাঁপল ঢাকাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা (Bangladesh Earthquake)। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.১। যদিও কম্পনটি ছিল মাঝারি তীব্রতার, তবুও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মনে কারণ এর ঠিক আগেই পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে দেশজুড়ে, আর গত মাসের ভয়াবহ ৫.৭ মাত্রার কম্পনে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০ জন মানুষ।
তীব্র দুলুনিতে অস্থির সাধারণ মানুষ (Bangladesh Earthquake)
ঘুম ভাঙার মুহূর্তে যেন হঠাৎই মাটির গভীর থেকে নেমে এল কম্পনের সতর্কবার্তা। রাজধানী ঢাকার একাধিক এলাকায় বাড়িঘর দুলে ওঠার অনুভূতি পান বাসিন্দারা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জসহ নরসিংদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও কম্পনের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের অন্ধকারে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন গত মাসের ভূমিকম্পের ভয় এখনও তাজা স্মৃতিতে।
গভীরতা মাত্র ৩০ কিলোমিটার (Bangladesh Earthquake)
European-Mediterranean Seismological Centre (EMSC) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদীতে এবং কেন্দ্রের গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ কিলোমিটার। ভূগর্ভের এমন অগভীর উৎসস্থলের ভূমিকম্প সাধারণত আশপাশের অঞ্চলে দ্রুত ও তীব্র অনুভূত হয়। ফলে ঢাকার মতো শহরেও এর অভিঘাত স্পষ্ট ছিল। যদিও সৌভাগ্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পপ্রবণ ভৌগোলিক বাস্তবতা (Bangladesh Earthquake)
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থান করার কারণে প্রতি বছর বিভিন্ন মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। ভারতীয়, মায়ানমার ও ইউরেশিয়ান এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থানই এর প্রধান কারণ। টেকটোনিক চাপ বাড়লেই ছোট-বড় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিপজ্জনক অবস্থায় ঢাকা? (Bangladesh Earthquake)
ঢাকা শহরকে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ভূমিকম্প–ঝুঁকিপূর্ণ শহরের মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হয়। এর কারণ বহু, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, অসংখ্য পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, সঠিক নগর পরিকল্পনার অভাব, ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণশৈলীর ঘাটতি একটি মাঝারি স্তরের কম্পনও সহজেই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন যে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কল্পনাতীত হবে।
গত মাসের ভয়াবহ কম্পনের ছায়া (Bangladesh Earthquake)
কয়েক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশ ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছিল। কম্পনের তীব্রতায় ধসে পড়ে বহু বাড়িঘর, আহত হন শতাধিক মানুষ, এবং প্রাণ হারান ১০ জন। পশ্চিমবঙ্গেও সেই কম্পন অনুভূত হয়। কলকাতা পর্যন্ত দুলে ওঠে বহু বহুতল। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো মানুষের মনের ভীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আরও পড়ুন: Mamata: হুলিয়া জারি করবেন না যাতে বৃটিশ রাজের কথা মনে পড়ে যায়: কেন্দ্রকে তোপ মমতার
বড় বিপদের সম্ভাবনা
১৮৬৯ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অঞ্চলে ঘটে গেছে পাঁচটি বড় ভূমিকম্প যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.০-এর উপরে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করে, এই ভূখণ্ডে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদি, চিরস্থায়ী। প্রতিটি ভূমিকম্পই মনে করিয়ে দেয় সময় থাকতে প্রস্তুত থাকা জরুরি। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, দুর্যোগ প্রশিক্ষণ, দ্রুত উদ্ধারকাজের ব্যবস্থা এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনা ছাড়া বিপর্যয় থামানো প্রায় অসম্ভব। ভোরের এই কম্পন ক্ষতি করেনি ঠিকই, কিন্তু সতর্কবার্তা দিয়ে গেল প্রকৃতি কখন কীভাবে জানান দেবে, তা কেউ জানে না।



