Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে ফের রক্তাক্ত অধ্যায়। দীপু দাস নামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা উপমহাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে (Kajal Aggarwal)। গণপিটুনি, দেহদাহ, উল্লাস এই তিন শব্দেই যেন ধরা পড়ে মানবতার চরম পরাজয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পদ্মাপাড়ে, তা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নয় এ এক বৈশ্বিক মানবিক সংকেত।

নৃশংসতার চূড়ান্ত রূপ (Kajal Aggarwal)
ময়মনসিংহের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দীপু দাস গত দু’বছর ধরে ভালুকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। একদল উত্তেজিত বিক্ষোভকারী কারখানায় চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীপুকে টেনে-হিঁচড়ে কারখানার বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর চলে নির্মম গণপিটুনি। সেখানেই মৃত্যু হয় দীপুর। কিন্তু বর্বরতা সেখানেই থেমে থাকেনি। তাঁর নিথর দেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে চলে স্লোগান, উল্লাস। পোড়া মুণ্ডু ও ধড় ঘিরে উন্মত্ত জনতার সেই ছবি সভ্য সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
প্রশ্নের মুখে মানবতা (Kajal Aggarwal)
এই হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের বিবেকের উপর। আইন, প্রশাসন ও নৈতিকতার অনুপস্থিতিতে কীভাবে জনতা নিজেই বিচারক ও জল্লাদ হয়ে উঠছে এই প্রশ্ন আজ বাংলাদেশকে ছাপিয়ে গোটা বিশ্বে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণে কোনও মানুষকে এভাবে টার্গেট করা হলে তা নিছক অপরাধ নয়, তা হয়ে ওঠে ঘৃণার রাজনীতির ফলশ্রুতি।

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর অশান্ত বাংলাদেশ (Kajal Aggarwal)
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই হিংসার সূত্রপাত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই খবর ছড়াতেই বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা ও হিংসা। বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা সামনে আসে। এই অশান্তির রোষ গিয়ে পড়ে দীপুর মতো নিরীহ শ্রমিকের উপর। রাজনৈতিক বা আদর্শগত লড়াইয়ের বলি হয়ে গেল এক সাধারণ যুবক যার একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল তাঁর পরিচয়।
কাজল আগরওয়ালের প্রতিবাদ (Kajal Aggarwal)
এই প্রেক্ষাপটে সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল। তিনি লেখেন, “All eyes on Bangladesh Hindus” অর্থাৎ, “সকলের নজর বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর”। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “হিন্দুরা জেগে উঠুন। এই নীরবতা আপনাকে বাঁচাতে পারবে না।” এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বহু নেটিজেন তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। কারও মন্তব্য, “যাক, আপনার বুকের পাটা রয়েছে।” কেউ লেখেন, “ভাগ্যিস আপনার মতো সেলেবরা আছেন, যাঁরা প্রতিবাদ করতে ভয় পান না।”
দ্বিবিভক্ত সোশাল পাড়া (Kajal Aggarwal)
তবে কাজলের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কও দানা বাঁধে। একাংশের বক্তব্য, “এটা শুধু হিন্দুদের বিষয় নয়, এটা গোটা মানবজাতির উপর আঘাত।” আরেক পক্ষ মনে করেন, সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ওপর জোর দিলে সমস্যার সমাধান হয় না, বরং বিভাজন আরও গভীর হয়। তাঁদের মতে, এই ঘটনাকে মানবিকতার ব্যর্থতা হিসেবেই তুলে ধরা উচিত। ফলে কাজলের পোস্ট প্রশংসা ও সমালোচনা দুই মেরুতে ভাগ করে দিয়েছে সোশাল মিডিয়াকে।

আরও পড়ুন: Rajasthani Fair in Kolkata: কলকাতার বুকে এক টুকরো রাজস্থান ‘আপনো গাঁও’ মেলা
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের দায়
দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্ন। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই সুরক্ষা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব তার নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা। পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনও মানুষকে এভাবে হত্যা করা মানে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন প্রকাশ।



