Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক মানচিত্রে আবারও চাঞ্চল্য (Bangladesh-Pakistan)। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যে ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, ঠিক তেমনই একটি চুক্তির পথে হাঁটতে চলেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু সূত্রের খবর অনুযায়ী এই চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে জটিলতা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কৃতিত্বের প্রশ্নে।

পাকিস্তান–বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে? (Bangladesh-Pakistan)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক থাকতে পারে, যা কার্যকর হলে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১) একে অপরের দেশে সামরিক ঘাঁটি (Bangladesh-Pakistan)
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাকিস্তান সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে পারবে এবং একইভাবে পাকিস্তানেও বাংলাদেশের ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ থাকবে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার বাংলাদেশ এমন কোনও চুক্তির পথে হাঁটছে, যেখানে বিদেশি সেনা উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
২) অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ব্যবহারের অধিকার (Bangladesh-Pakistan)
দ্বিতীয়ত, একে অপরের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। সূত্রের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ চাইলে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ভাড়ায় নিতে পারবে। এর অর্থ, কেবল প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের দরজাও খুলে যাচ্ছে।
৩) পারস্পরিক সামরিক সহায়তার অঙ্গীকার
তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ সরাসরি পাশে দাঁড়াবে। অর্থাৎ এটি কার্যত একটি মিউচুয়াল ডিফেন্স প্যাক্ট, যা এতদিন বাংলাদেশ এড়িয়ে এসেছে।

চুক্তির সময় নিয়ে দ্বন্দ্ব (Bangladesh-Pakistan)
এই চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে সময় নির্বাচন নিয়ে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস চান, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগেই সম্ভবত জানুয়ারিতেই এই চুক্তি সই হোক। অন্যদিকে, বিএনপির নেতা তারেক রহমান চাইছেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপিই এই চুক্তির কৃতিত্ব নিক। সহজ কথায় বলতে গেলে, চুক্তি হবে কি না তার থেকেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এর রাজনৈতিক ফসল কে ঘরে তুলবে।

ভারত-বিরোধী আবহে চুক্তির গুরুত্ব (Bangladesh-Pakistan)
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে আসছে, যখন বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী সুর ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ দখলের হুমকির মতো বক্তব্য শোনা গিয়েছে, যা কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই আবহেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের যুব শাখার নেতা কামরান সইদ উসমানি প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “যদি ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করে বা কেউ বাংলাদেশের দিকে কুনজর দেয়, তাহলে মনে রাখবেন পাকিস্তানের মানুষ, পাকিস্তানি সেনা বাহিনী এবং আমাদের মিসাইল খুব বেশি দূরে নেই।” এই বক্তব্য যে নিছক রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলের অংশ তা বলাই বাহুল্য।
হাসিনার পতনের পর বদলে যাওয়া ঢাকা (Bangladesh-Pakistan)
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই বাংলাদেশের জন্ম, এবং যে যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক সেই পাকিস্তানের সঙ্গেই ইউনূস জমানায় এসে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এই বদল কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং আদর্শগত বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভারত-ঘনিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির জায়গায় ধীরে ধীরে পাকিস্তান ও চিনমুখী কৌশল জায়গা করে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: SIR Draft: SIR-এর খসড়া তালিকায় পদবি-হীন মন্ত্রী শোভনদেব
ইতিহাস বনাম বর্তমান বাস্তবতা
ইতিহাসের নির্মম পরিহাস এখানেই। পাকিস্তানি সেনার অত্যাচার, গণহত্যা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এই সবের পর জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের সামরিক সহায়তা ছাড়া সেই স্বাধীনতা প্রায় অসম্ভব ছিল। অথচ আজ সেই ইতিহাসকে কার্যত উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে হাঁটছে ঢাকা। এটি কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার এক মৌলিক দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।



