Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগ টানা দুই দিনের শাটডাউনের ডাক দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে (Bangladesh Shoot Order)। রবিবার ও সোমবার জুড়ে দেশজুড়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তাঘাট প্রায় অচল। ককটেল বোমার শব্দে শহরের একাধিক অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু গাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরানোর ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু (Bangladesh Shoot Order)
সোমবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার কথা। মামলায় হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি; যা বহু মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। যদিও হাসিনা এসব অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন। রায় ঘোষণার আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে উঠেছে।

‘গুলি চালানোর নির্দেশ’ (Bangladesh Shoot Order)
এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মুহাম্মদ সাজ্জাত আলী কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন,
যদি কেউ ককটেল ছোঁড়ে, অগ্নিসংযোগ করে বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে, তাহলে আইনের আওতায় সরাসরি গুলি চালানো হবে। সরকারি ব্যাংক, দপ্তর বা ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাও একই নির্দেশের আওতায় পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি। কমিশনারের বক্তব্য, “যাঁরা মানুষ, পুলিশ সদস্য বা যানবাহনের উপর হামলা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবেই গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের আত্মপক্ষ সমর্থন (Bangladesh Shoot Order)
বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তারা দণ্ডবিধির ৯৬-১০৬ ধারার উল্লেখ করে দাবি করেছেন, আত্মরক্ষা বা জননিরাপত্তা রক্ষার্থে বলপ্রয়োগ বা গুলি চালানো অপরাধ নয়। ৯৬ ধারা অনুযায়ী, “ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে কৃত কোনকিছুই অপরাধ নহে।” এই আইনি ব্যাখ্যাকে সামনে রেখে পুলিশের ভূমিকাকে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জুলাই আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি কি হবে? (Bangladesh Shoot Order)
গুলির নির্দেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ কি এই নির্দেশের অপব্যবহার করবে? নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে? গত বছরের জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি কি আবারও দেখা যাবে? সবচেয়ে বড় বিতর্ক, যে অভিযোগ (গুলি চালানোর নির্দেশ) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, সেই একই ঘটনার মতো নির্দেশ কীভাবে রায়দানের দিনই পুনরায় জারি হতে পারে?
আরও পড়ুন: Lalu Prasad: বিহার ভোটের পর কি যাদব পরিবারে নতুন রাজনৈতিক যুদ্ধ শুরু হল?
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার ছায়া
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট ইতিমধ্যেই জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আদালতের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা আরও বাড়বে না তো এমন আশঙ্কা তীব্র। শাটডাউনের মধ্যেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণ এবং কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



