Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশ আজ গভীর অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে (Sheikh Hasina)। যে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল, সেই আন্দোলনের পরিণতি যে এত দ্রুত ভয়াবহ আকার নেবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করেননি। অন্তর্বর্তী শাসনের নামে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন যে প্রশাসন ক্ষমতায় বসেছে, তাদের ব্যর্থতা আজ নগ্নভাবে প্রকাশ্যে। আইনশৃঙ্খলার ভাঙন, মৌলবাদীদের দাপট এবং সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতির ভিতকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

সংখ্যালঘুদের উপর নৃশংসতা (Sheikh Hasina)
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, বিশেষ করে হিন্দুরা (Sheikh Hasina)। শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তাঁদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে। ময়মনসিংহে কারখানার শ্রমিক দীপুচন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে শিউরে ওঠার মতো। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায় অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নামে আরও এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে তোলাবাজির যোগ থাকার দাবি করলেও, পরপর দু’জন হিন্দু যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু সংখ্যালঘু সমাজের মনে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এই নৃশংসতা কি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি মৌলবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে তৈরি হওয়া এক ভয়ংকর প্রবণতা?
প্রশাসনিক ব্যর্থতা (Sheikh Hasina)
ইউনুস সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা। বরং বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠছে, প্রশাসনের নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তাই এই শক্তিগুলিকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণামূলক প্রচার সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রমশ এক অরাজক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। এক সময় যে বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিল, আজ সেই দেশেই মানুষকে কেবলমাত্র ধর্ম পালনের জন্য প্রাণ দিতে হচ্ছে এ বাস্তবতা গভীর উদ্বেগজনক।
বড়দিনে নির্বাসিত শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর (Sheikh Hasina)
এই অশান্ত পরিস্থিতিতে বড়দিনে নির্বাসিত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিওবার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বাংলাদেশে আজ অমুসলিমরা অকথ্য নির্যাতনের শিকার। সংখ্যালঘুদের জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। হাসিনার মতে, বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে থাকা ইউনুস সরকারের ব্যর্থ নীতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় যেভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, তা শুধু বেদনাদায়ক নয়, বরং দেশের মৌলিক চরিত্রের পরিপন্থী।
আরও পড়ুন:Govinda: ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর আগেই কেন চর্চায় গোবিন্দা?
সম্প্রীতির বাংলাদেশ কি আবার ফিরবে?
শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ বরাবরই সম্প্রীতির দেশ এবং এই অন্ধকার বেশিদিন সহ্য করবে না দেশবাসী। বড়দিনের মতো উৎসব সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা বহন করে এই আদর্শই একদিন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে, এমনটাই তাঁর বিশ্বাস। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হল এই আশার বাস্তবায়ন কত দ্রুত সম্ভব? যতদিন না আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততদিন বাংলাদেশে ভয় আর অনিশ্চয়তার মেঘ কাটবে না।



