Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ ছ’বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে বিষ্ণুপুরবাসীর (Bankura)। ইতিহাস, বিশ্বাস ও আবেগে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন ষাঁড়েশ্বর মন্দির ফের খুলতে চলেছে সর্বসাধারণের জন্য। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মন্দিরের শুদ্ধিকরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধর্মীয় কর্মসূচি। তার মধ্য দিয়েই নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে এই ঐতিহ্যবাহী শৈবতীর্থ।

শুদ্ধিকরণে সূচনা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের (Bankura)
মন্দির শুদ্ধিকরণ উপলক্ষে এক বিশাল ধর্মীয় আয়োজনের সাক্ষী হতে চলেছে বিষ্ণুপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকা। মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর শহর ও ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মহিলা কলস হাতে দ্বারকেশ্বর নদ থেকে জল এনে মন্দির চত্বর শুদ্ধ করবেন। একই সঙ্গে হবে ভূমিশুদ্ধিকরণ ও যজ্ঞের সূচনা। এই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে তারকেশ্বর মন্দিরের মহারাজের তত্ত্বাবধানে। পাশাপাশি বেনারস থেকে আগত প্রায় ২০ জন ব্রাহ্মণ উপস্থিত থেকে বৈদিক রীতি অনুযায়ী সমস্ত কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।
বন্ধ ছিল সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ (Bankura)
দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারকাজ চলায় সাধারণ ভক্তদের জন্য বন্ধ ছিল মন্দিরের দরজা। যদিও পুরোহিতদের দ্বারা ভিতরে থাকা শিবলিঙ্গে নিত্যপুজো চালু ছিল। সংস্কার সম্পূর্ণ হওয়ায় এবার থেকে সাধারণ মানুষও নিয়মিত পুজো দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই খবর স্বাভাবিকভাবেই এলাকার মানুষ ও শিবভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

ইতিহাসে গাঁথা ষাঁড়েশ্বর মন্দির (Bankura)
বিষ্ণুপুর ব্লকের ডিহর গ্রামে অবস্থিত ষাঁড়েশ্বর মন্দির বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর অধীন। ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৩৪৬ সালে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম মল্লরাজা পৃথ্বী মল্ল ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে এই মন্দির নির্মাণ করেন। কালের প্রবাহে মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কানানদীর জলের প্রভাবে মন্দিরের ভিত্তি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ভূমিকম্পের ধাক্কায় মন্দিরের দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এএসআই-এর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সংস্কারপর্ব (Bankura)
দীর্ঘ দাবির পর ২০২০ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু করে। ওড়িশা থেকে দক্ষ কারিগর এনে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে মাঝপথে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালে ফের নতুন উদ্যমে সংস্কারকাজ শুরু হয়। পুরনো ল্যাটেরাইট পাথর খুলে সেগুলি পালিশ করে পুনরায় যথাযথভাবে বসানো হয়। ঐতিহ্য ও স্থাপত্য রক্ষা করেই মন্দিরের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরে অবশেষে এই দীর্ঘ সংস্কারপর্বের সমাপ্তি ঘটেছে।
বিপুল ভক্তসমাগমের প্রস্তুতি (Bankura)
মন্দির কমিটির ক্যাশিয়ার শম্ভুনাথ কর জানিয়েছেন, “১৮ ফেব্রুয়ারি শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্দির প্রাঙ্গণে মহা মৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।” এই উপলক্ষে বিষ্ণুপুর শহর ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভক্তদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার মানুষের খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গাজন উৎসবের প্রত্যাবর্তন (Bankura)
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে ২১ ফেব্রুয়ারি, যেদিন পাশের শৈলেশ্বর মন্দির থেকে বাবা ভৈরবকে ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ছ’বছর ধরে চৈত্র মাসের গাজন উৎসব শৈলেশ্বর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। চলতি বছর থেকে সেই গাজন উৎসব ফের ষাঁড়েশ্বর মন্দিরেই আয়োজন করা হবে, যা ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Basanti Firing: প্রেমের জেরে বচসা, ঝগড়া দেখতে গিয়ে বাসন্তীতে গুলিবিদ্ধ যুবক
ঐতিহ্যের মিলনস্থল
বর্তমানে মন্দিরের পাঁচিল নির্মাণের কাজ চলছে। মন্দির কমিটির দাবি, ষাঁড়েশ্বর মন্দির শুধুমাত্র একটি উপাসনাস্থল নয় এটি মানুষের বিশ্বাস, আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। দূরদূরান্তের ভক্তদের কাছেও এই মন্দির এক গভীর আধ্যাত্মিক টান সৃষ্টি করে।



