Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিধু মান্ডি : বাঁকুড়ার অঞ্চলের জঙ্গলমহল যেখানে রাজনীতি মানেই সাধারণত মঞ্চ, মাইক আর স্লোগান (Bankura)। কিন্তু সেই চেনা ছবিকে একেবারে বদলে দিলেন রানিবাঁধ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু। শনিবার ঝিলিমিলির পড়াডি হাটে তাঁর প্রচারের ধরন যেন হয়ে উঠল একেবারে ব্যতিক্রমী। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হাটে পৌঁছে তিনি শুধুমাত্র বক্তৃতা দেননি; বরং মিশে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের ভিড়ে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি আচমকাই দেখা গেল তিনি নিজেই বসে পড়েছেন এক সবজি বিক্রেতার পাশে!

দাড়িপাল্লা হাতে প্রার্থীর ‘মাটির টান’ (Bankura)
হাটের মধ্যেই দাড়িপাল্লা হাতে নিয়ে সবজি বিক্রি করতে শুরু করেন ক্ষুদিরাম টুডু। কুমড়ো, পুঁইশাক-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি ওজন করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে দেখা যায় তাঁকে। এই দৃশ্য মুহূর্তে আকর্ষণ করে হাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে। রাজনীতির মঞ্চ থেকে নেমে এসে এইভাবে সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ার ছবি সচরাচর দেখা যায় না। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই অনেকেই এটিকে ‘ভোটের আগে বাস্তবতার ছোঁয়া’ বলেও মনে করছেন।
‘আমি কৃষকের ছেলে’—আবেগের বার্তা (Bankura)
এই অভিনব প্রচারের পেছনে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রার্থী। ক্ষুদিরাম টুডু জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই ধরনের হাটে সবজি বিক্রি করেছেন। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে এই কাজ তাঁর কাছে একেবারেই নতুন নয়। তিনি বলেন,
“এখানকার হাট মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি এখানে মানুষের কাছে যেতে চেয়েছি, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি। এক পরিচিতকে সবজি বিক্রি করতে দেখে নিজেকে সামলাতে পারিনি।” এই বক্তব্যে উঠে আসে তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সংযোগের বার্তা, যা ভোটারদের কাছে আবেগঘন আবেদন হিসেবেই ধরা পড়েছে।

জঙ্গলমহলের হাট: অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র (Bankura)
ঝিলিমিলির পড়াডি হাট শুধুমাত্র একটি বাজার নয় এটি জঙ্গলমহলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচার পাশাপাশি এই হাটই স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এই জায়গাকে প্রচারের জন্য বেছে নেওয়া নিছক কৌশল নয়, বরং এলাকার বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি প্রয়াস বলেই মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন: Bengal Elections 2026: বিক্ষোভে উত্তাল দফতর, মানতে নারাজ বিজেপিরই একাংশ

প্রচারের নতুন ভাষা না কি রাজনৈতিক কৌশল?
ক্ষুদিরাম টুডুর এই পদক্ষেপকে কেউ দেখছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাটির টানে যুক্ত হওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন এটি নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশল। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট এই ধরনের ব্যতিক্রমী প্রচার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গলমহলের ভোটযুদ্ধের আবহে এই ছবি নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।



