Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, সেচের জলের সমস্যা আর ভাগীরথীর অনিয়ন্ত্রিত ভাঙনে বহু চাষি হারিয়েছেন তাঁদের চাষযোগ্য জমি (Bhagirathi River)। নদীর ফুলে ওঠা জলে বিঘের পর বিঘে জমি ডুবে যায় বছরের পর বছর। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ঝাউডাঙা ও হালতাচরার চাষিরা ধান, তিল, সর্ষের মতো ঐতিহ্যবাহী চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। জীবিকার নতুন পথ খুঁজতে তাঁরা বেছে নিয়েছেন গাঁদা ফুলের চাষ, যা আজ বদলে দিয়েছে তাঁদের জীবনের রূপরেখা।

গাঁদা ফুলে রঙিন জীবিকা (Bhagirathi River)
কয়েক বছর আগেও যেখানে মাঠে দেখা যেত পাট বা ধানের শস্যদানা, আজ সেখানে চোখ জুড়ানো হলুদ ও কমলা গাঁদার ফুল। পূর্বস্থলীর হালতাপাড়ায় এক নজরে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজের সাজপোশাক বদলে নিয়েছে। এই গাঁদাই এখন চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। চাষিদের মতে, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে ও বিদেশেও চাহিদা বাড়ছে গাঁদার। ফলে এই ফুল এখন গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে।
ফুল যাচ্ছে রাজ্যের বাইরে ও বিদেশে (Bhagirathi River)
গাঁদা ফুলের যাত্রা এখন শুধুই রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদিয়ার বেথুয়াডহরি হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে রেফ্রিজারেটেড ভ্যানে ফুল যাচ্ছে নেপাল পর্যন্ত। এছাড়াও কালনা শহর সংলগ্ন একটি হিমঘরে ফুল সংরক্ষণ করে সেখান থেকে নিয়মিত ফুল পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতেও। এই পরিবহন ব্যবস্থায় ফুল নষ্ট না-হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ফুটোযুক্ত প্লাস্টিক প্যাকেট, যাতে ফুল টাটকা থাকে দীর্ঘক্ষণ। এই সুশৃঙ্খল সরবরাহব্যবস্থা চাষিদের আয়ের পথকে আরও মজবুত করেছে।
লাভের অঙ্কে নতুন উত্থান (Bhagirathi River)
স্থানীয় বাজারে ২০টি গাঁদার মালার দাম গড়ে যেখানে ২৫০ টাকা, সেখানে ভিন রাজ্য ও নেপালের বাজারে সেই দর ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে। ফলে দ্বিগুণ মুনাফা মিলছে চাষিদের হাতে। এক বিঘা জমিতে গাঁদার চাষে খরচ হয় আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। চাষের মৌসুমে প্রতি দুই দিন অন্তর ফুল তোলা হয়, আর দুই মাসের মধ্যেই আয় দাঁড়ায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে এর জন্য জমিতে প্রতিদিন পরিচর্যা জরুরি জল, সার, ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় নিয়মিতভাবে।
আরও পড়ুন: Rashmika-Vijay Deverakonda: রশ্মিকার হাতে জ্বলজ্বলে হিরের আংটি, বাগদানে সিলমোহর?
পরিশ্রমে ফল মিষ্টি (Bhagirathi River)
গাঁদা চাষে যেমন পরিশ্রম বেশি, তেমনই লাভও নিশ্চিত। চাষিরা বলছেন, দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মাঠে কাজ, সূর্যাস্তের পরও শেষ হয় না পরিচর্যা। তবুও যখন রেফ্রিজারেটেড ভ্যানে ফুল পাড়ি দেয় বিদেশে, তখন গর্বে ভরে ওঠে বুক।
আজ ভাগীরথীর ধারে গাঁদার মাঠ শুধু ফুল নয়, হয়ে উঠেছে আশার প্রতীক এক নতুন কৃষি-অর্থনীতির সোনালি অধ্যায়।



