Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় রেলপথে ফের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Bihar Rail Accident)। বিহারের জামুই জেলায় জসিডি–ঝাঝা রুটে সিমেন্ট বোঝাই একটি মালগাড়ির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ানো গেলেও, রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেল।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? (Bihar Rail Accident)
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মালগাড়িটি বড়ুয়া নদীর উপর অবস্থিত রেলব্রিজ পার হওয়ার সময় আচমকাই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ২০টি বগির মধ্যে ১৯টিই লাইনচ্যুত হয়ে যায়। তার মধ্যে ১০টি বগি সোজা নদীতে পড়ে যায় এবং আরও দু’টি বগি বিপজ্জনকভাবে ব্রিজের ধারে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। প্রতিটি বগিই সিমেন্টে ভর্তি ছিল। ফলে দুর্ঘটনায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনও নির্ধারিত হয়নি।
প্রাণহানি না হলেও বিপদের আঁচ (Bihar Rail Accident)
এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে স্বস্তির খবর কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে রেল আধিকারিকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই আরপিএফ, রেল প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দ্রুত শুরু হয় উদ্ধারকাজ, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক ও ব্রিজ অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত (Bihar Rail Accident)
দুর্ঘটনার জেরে পূর্ব রেলের জসিডি–ঝাঝা রুটে আপ ও ডাউন লাইনে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চলেছে। এমনকি দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসও এই রুটে বিলম্বিত হয়েছে। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
তদন্ত শুরু, কারণ এখনও অস্পষ্ট (Bihar Rail Accident)
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্র্যাকের অবস্থা, অতিরিক্ত লোড বা সিগন্যাল ব্যবস্থার কোনও গাফিলতি সব দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেই রেল কর্তৃপক্ষের দাবি।

প্রশ্নের মুখে ভারতীয় রেল (Bihar Rail Accident)
এই দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া একাধিক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনার কথা।
২০২৩ সালে ওড়িশার বাহানগায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা, তার পর গত বছরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ও ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসের মতো দুর্ঘটনা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। চলতি বছরেও বড় ও ছোট মিলিয়ে একাধিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ভারতীয় রেল। এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় রেল মানেই কি দুর্ঘটনা?
সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি (Bihar Rail Accident)
রেল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে আসছে ‘কবচ’ প্রযুক্তির প্রসঙ্গ। প্রায় ৬৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় রেলপথের মধ্যে এখনও মাত্র কয়েক হাজার কিলোমিটার ট্র্যাক এই স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। ২০০১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন অ্যান্টি কলিশন ডিভাইসের ধারণা সামনে আসে। তখন মূলত লোকো ইঞ্জিনে এই ব্যবস্থা বসানোর কথা বলা হয়েছিল। পরে ২০২০-র পর এই প্রযুক্তির নামকরণ করা হয় ‘কবচ’। এর মূল উদ্দেশ্য মানবিক ভুল বা সিগন্যাল বিভ্রাটের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা এড়ানো।

রাজনৈতিক তরজা ও বাস্তব প্রশ্ন
‘কবচ’ ব্যবস্থা চালু করতে বিলম্ব হওয়াকেই বিরোধীরা বারবার দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁদের অভিযোগ, আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না করায় রেলপথ আজও নিরাপদ হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা বিস্তৃত করা হচ্ছে এবং রেলের আধুনিকীকরণ চলছে।



