Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া শান্তিনিকেতনে ছাতিমতলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, ব্রহ্ম উপাসনা ও বৈদিক মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা(Poush Mela)। উপাসনায় অংশ নেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, অধিকর্তা অমিত হাজরা ও অধ্যাপক সুমন ভট্টাচার্য। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। এছাড়াও বিশ্বভারতীর অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, পড়ুয়া ও আশ্রমিকদের উপস্থিতিতে উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতন।
পর্যটকে ভরপুর বোলপুর-শান্তিনিকেতন(Poush Mela)
পৌষমেলা(Poush Mela) শুরু হতেই বোলপুর ও শান্তিনিকেতনজুড়ে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৭০০টি স্টলের প্লট ইতিমধ্যেই বুক হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্লাস্টিক বর্জন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বভারতীর অধিকর্তা অমিত হাজরা জানান, স্টল বুকিংয়ে ভালো সাড়া মিলেছে এবং দমকলের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গাও রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামোগত সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ মেলা(Poush Mela)
আগামী ছয় দিন ধরে মেলা প্রাঙ্গণের বিনোদন মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। লোকসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের মাধ্যমে পৌষমেলার(Poush Mela) ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির মিলন ঘটবে। এই মেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি
বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল জানান, মেলার নিরাপত্তায় প্রায় ২৫০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকছেন। এর মধ্যে মহিলা পুলিশ, র্যাফ, সাদা পোশাকের পুলিশ, অ্যান্টি-ক্রাইম টিম ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল রয়েছে। বোলপুর-শান্তিনিকেতন জুড়ে স্থায়ী প্রায় ২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণ ও প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আরও ৩০০টি অস্থায়ী ক্যামেরা। পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে।

আরও পড়ুন: Calcutta High Court : মেসি মামলায় একাধিক প্রশ্ন হাই কোর্টের, শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত
দর্শনার্থীদের বিশেষ সুবিধা
মেলায় থাকছে ৩৬টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, ১০টি ওয়াচ টাওয়ার ও আটটি ড্রপ গেট। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য চালু করা হয়েছে চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নার। হারিয়ে যাওয়া এড়াতে শিশুদের গলায় অভিভাবকের ফোন নম্বর সংবলিত কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে পুলিশের টোটো পরিষেবা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স।


