Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ, বৃহস্পতিবার, সারা দেশে যখন উৎসবের আমেজে পালিত হচ্ছে দশেরা (Bisrakh Village), তখন এক অন্য ছবি দেখা যায় উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বিসরাখ গ্রামে। অন্যত্র যেখানে রাবণের কুশপুতুল দাহ করা হয়, অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে, সেখানে বিসরাখের মানুষরা উল্টোদিকেই হাঁটে। তাঁদের কাছে রাবণ কোনো অশুভ প্রতীক নন, বরং তিনি জ্ঞানের প্রতীক, শিবের ভক্ত এবং গ্রামের পুত্র।

রাবণের জন্মস্থান কোথায়! (Bisrakh Village)
স্থানীয়দের বিশ্বাস, বিসরাখ নামটি এসেছে রাবণের বাবা ঋষি বিশ্বশ্রবার-এর নাম থেকে। তাঁদের মতে, এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাবণ। শুধু রাবণই নন, তাঁর ভাই কুম্ভকর্ণ, বিভীষণ এবং বোন সুর্পনখাও এই গ্রামেই জন্মেছিলেন। ঋষি বিশ্বশ্রবার ছিলেন ঋষি পুলস্ত্যর সন্তান। তাই বিসরাখ গ্রামটি শুধুই রাবণের জন্মভূমি নয়, বরং ঋষি পুলস্ত্যের আশ্রম হিসেবেও পরিচিত।

দশাননের মাহাত্ম্য! (Bisrakh Village)
গ্রামের পুরোহিত রামদাস মহারাজ জানান, রাবণ জন্মেছিলেন এক মাথা নিয়েই। পরে তিনি শিবের উপাসনায় নিজের মাথা দশ বার কেটে অর্পণ করেন। শিব তাঁর ভক্তিকে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে দশটি মাথা প্রদান করেন। সেই কারণেই তাঁর নাম হয় দশানন। এখানকার মানুষ বিশ্বাস করেন, রাবণ ছিলেন এক মহান শিবভক্ত এবং অতুলনীয় জ্ঞানী।

রাবণের মন্দির ও পূজা (Bisrakh Village)
গ্রামের মধ্যেই রয়েছে রাবণের মন্দির। প্রতি বছর দশেরার দিনে এখানে রাবণের মূর্তিকে অগ্নিদগ্ধ করা হয় না। বরং, বাসিন্দারা এদিন পালন করেন রান্নার উৎসব।
- তারা অস্ত্র পূজা করেন।
- বাড়িতে তৈরি হয় ক্ষীর, লুচি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাবার।
- এই দিনকে তাঁরা রাবণের মৃত্যুর জন্য শোকের দিন হিসেবে পালন করেন।
রামলীলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ (Bisrakh Village)
বিসরাখ গ্রামের মানুষজন বিশ্বাস করেন, রামলীলায় অংশ নিলে অমঙ্গল ডেকে আনে। অতীতে কয়েকটি ঘটনা তাঁদের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
- একবার এক গ্রামবাসী রামলীলায় অংশ নেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
- আরেকজন রাবণের কুশপুতুল দাহ করার পর মানসিক ভারসাম্য হারান।
আরও পড়ুন: Kanakdurga Jhargram: চারশো বছরেরও পুরনো কনকদুর্গা মন্দির কেন এত রহস্যঘেরা?
উৎসবের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
যখন নানা প্রান্তে রাবণ দহনকে অশুভ শক্তির বিনাশ হিসেবে দেখা হয়, তখন বিসরাখ গ্রামে রাবণকে স্মরণ করা হয় গ্রামের পুত্র ও এক মহাজ্ঞানী শিবভক্ত হিসেবে। এখানকার মানুষ রাবণকে দেবতার মর্যাদা দেন এবং আজও তাঁর পূজা করেন।



