Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আড়ালে রাজনীতির উপস্থিতি নতুন নয় (Gita Path Programme)। তবু রবিবার ব্রিগেড মাঠে আয়োজিত গীতাপাঠ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক যেন অন্য মাত্রা পেল। আয়োজকদের তরফে প্রথম থেকেই দাবি ছিল এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু বাস্তব ছবি এই দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ব্রিগেডের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে প্রাক্তন সভাপতি পর্যন্ত। সঙ্গে রাজ্যপালের উপস্থিতি সব মিলিয়ে এই গীতাপাঠ যে রাজনৈতিক বার্তায় পরিপূর্ণ, তা অনস্বীকার্য।

অরাজনৈতিক দাবি (Gita Path Programme)
অনুষ্ঠানটি ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’-এর আয়োজনে হলেও মঞ্চে যে নেতাদের দেখা গেল, তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, তথাগত রায়, রাহুল সিনহা, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল প্রায় সব স্তরের নেতৃত্বই হাজির। উল্লেখযোগ্যভাবে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, যিনি বর্তমানে কোনও বড় organisational পদে নেই। এমন সমাহার কি নিছক ধর্মীয় উৎসাহ? নাকি নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন? প্রশ্ন থেকেই যায়।
রাজ্যপালের উপস্থিতি (Gita Path Programme)
গীতাপাঠ মঞ্চে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাংবিধানিক পদে থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা অনেকেই স্বাভাবিক বলে মানলেও, নির্বাচনের আগে এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা অনিবার্য। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল কি আসলেই অরাজনৈতিক অবস্থানে ছিলেন, নাকি পরোক্ষভাবে কোনও বার্তা দিলেন?

তিন মঞ্চে গীতাপাঠ (Gita Path Programme)
অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় মহিমায় ভরপুর ছিল,
- তিনটি বৃহৎ মঞ্চ
- দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত সাধুসন্ত
- গীতাপাঠের আগে বেদ পাঠ
- সভাপতিত্বে জ্ঞানানন্দজি মহারাজ
- বিশেষ উপস্থিতি বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী
এই বিশাল আয়োজন নিঃসন্দেহে ধর্মীয় প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে হলেও, রাজনৈতিক চরিত্রের উপস্থিতি তা সমানে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

‘ধর্মকে হাতিয়ার করছে বিজেপি’ (Gita Path Programme)
তৃণমূল কংগ্রেস এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কড়া সমালোচনা করেছে। জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আরও এক তীব্র তুলনা মুর্শিদাবাদের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের কোনও পার্থক্য নেই। দুই পক্ষই বিভাজনের রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা আবার হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদ’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে আক্রমণের হাতিয়ার করেছেন।
নির্বাচন সামনে, উত্তাপ বাড়ছে (Gita Path Programme)
বিধানসভা নির্বাচন যতই কাছে আসছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো ততই রাজনৈতিক মূল্য পাচ্ছে। ব্রিগেডের মতো জনতার মাঠে এমন বৃহৎ গীতাপাঠ কর্মসূচি নিছক ধর্মীয় আয়োজন এ দাবি সরল মানুষজন সহজে মেনে নেবেন না। সাধুসন্তের উপস্থিতি থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমাবেশ সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এই কর্মসূচি রাজনৈতিক বার্তার বাহক হিসেবেও কাজ করছে।
আরও পড়ুন: Humayun Kabir: হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট
রাজনীতির জটিল সম্পর্ক
ভারতের রাজনীতিতে ধর্ম সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ। এই গীতাপাঠ অনুষ্ঠান সেই সম্পর্কের আরও একটি দৃষ্টান্ত।
ধর্মীয় আবেগ, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও রাজনৈতিক কৌশলের মিশেল এমন পরিবেশে অরাজনৈতিক দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। জনগণের মন ছোঁয়ার জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ব্যবহার করা রাজনৈতিক দলগুলির দীর্ঘদিনের রণকৌশল। ব্রিগেডের এই আয়োজনও সেই ধারারই আধুনিক সংস্করণ।



