Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার পারদ চড়ছে (Bomb Attack)। তারই মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার বশিরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই বিস্ফোরণকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে বিরোধী বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে।

বিকট শব্দে আতঙ্ক, তৎপর পুলিশ প্রশাসন (Bomb Attack)
মঙ্গলবার গভীর রাতে বশিরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত মজুমদারের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাউন্সিলরের পরিবারের সদস্যরাও চরম ভীত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বশিরহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে প্রাথমিক তদন্ত চালানো হয়। খবর পেয়ে বশিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাউন্সিলরের বাড়িতে যান এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
“জনপ্রতিনিধিরই নিরাপত্তা নেই” (Bomb Attack)
ঘটনার পর অসিত মজুমদার জানান, কিছু লোক তাঁর বাড়িতে এসেছিল। তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি বলেন, “আমি খবরের কাগজ পড়তে যাচ্ছিলাম, তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। কে বা কারা এই বোমা রেখেছে, তা পুলিশই বলতে পারবে। আমার রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা আগে দেখিনি। বশিরহাটে এই ধরনের সংস্কৃতি ছিল না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমরা যদি জনপ্রতিনিধি হয়েও নিরাপত্তাহীন থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

“রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এই বাড়ি” (Bomb Attack)
তৃণমূল নেতা সুবীর সরকার দাবি করেছেন, বাড়ির পিছনের দরজায় বোমা ছোঁড়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “এটি দুষ্কৃতীদের কাজ। অসিতবাবুর হাত ধরেই আমরা অনেকেই রাজনীতিতে এসেছি। তাঁর বাড়িই আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। যদি এমন জায়গায় বোমা পড়ে, তাহলে কারও বাড়িই নিরাপদ নয়।” তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের কোনও রাজনৈতিক রং নেই। যদি দলের ভেতরকার কেউ জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দলের পক্ষ থেকে পুলিশের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগে সরব বিজেপি (Bomb Attack)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপির বশিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পলাশ সরকার অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বশিরহাটের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলেই এই বিস্ফোরণ।” তিনি আরও বলেন, “এই কুশাসনের অবসান খুব শিগগিরই হবে। ২৬-এর নির্বাচনের পর বশিরহাট থেকে তৃণমূল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” বিজেপির এই মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্ন
বোমা বিস্ফোরণের এই ঘটনা কেবল একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং তা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশ কতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তারই ইঙ্গিত বহন করছে। জনপ্রতিনিধির বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বশিরহাট দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। ফলে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় নির্বাচন যত এগোবে, ততই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।



