Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: “একটা করে বন্ধু হারালে, একটা করে বই কিনে নিও” ( অদ্বিতীয়) গত কয়েকবছর ধরে এই লাইনটি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (Book)। বইয়ের থেকে বিশ্বস্ত কোন বন্ধু হয় নাকি? তাও আবার যে বইগুলো পড়লে মনে হয় নিজের ভেতরের কথাগুলোই গুছিয়ে রেখেছে কেউ। এ মলাট থেকে ও মলাট, এই অল্প কিছু কাগজের স্তূপের মধ্যেই যে কতখানি ঐশ্বর্য লুকিয়ে থাকে, তা কেবল পাঠকই জানেন। বইয়ের গন্ধ, পাতার শব্দ, অক্ষরের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা অনুভূতি, সব মিলিয়ে পড়া কেবল বিনোদন নয়, এক গভীর মানসিক যাত্রা। একবার যে এই স্বাদ পেয়েছে, সে জানে এ আসক্তি থেকে মুক্তি নেই। সময় বদলায়, মাধ্যম বদলায়, কাগুজে বই থেকে ই-বুক, খবরের কাগজ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার গল্প, কিন্তু পড়ার খিদে অমলিনই থাকে। কথায় বলে, “মনের খিদে মেটানোর সেরা উপায় বই।” শুনতে ক্লিশে লাগলেও, এর ভেতরে রয়েছে এক গভীর সত্য। মানুষের মনের প্রয়োজন যেমন বিচিত্র, তেমনই সেই প্রয়োজন মেটানোর জন্য রয়েছে নানা ধরনের বই। কখনও সঙ্গী, কখনও পথপ্রদর্শক, কখনও আয়না, বই আমাদের মনের প্রতিটি স্তরে আলতো স্পর্শ রেখে যায়।

মানসিক চাপের ওষুধ (Book)
আধুনিক জীবনযাত্রা মানেই ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা আর অনিশ্চয়তার চাপ (Book)। স্ট্রেস যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই অবস্থায় হালকা মেজাজের গল্প, প্রেমের উপন্যাস কিংবা হাস্যরসাত্মক রচনা মুহূর্তেই মন হালকা করে দিতে পারে। কিছু সময়ের জন্য হলেও উদ্বেগ থেকে মুক্তি মেলে। শুধু গল্পই নয়, নিউরোসায়েন্স বা কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (সিবিটি)-নির্ভর গাইডবুকও আমাদের ভাবনার ধরন বদলাতে সাহায্য করে। এই ধরনের বই আমাদের শেখায় কীভাবে নেতিবাচক চিন্তার ধারা চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেলফ-হেল্প বা মোটিভেশনাল বই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে, মনকে ইতিবাচকতার দিকে ধাবিত করে। বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি পাঠককে আশ্বাস দেয় “তুমি একা নও।”
একাকীত্বের সঙ্গী (Book)
একা হয়ে পড়া আজকের সমাজে অস্বাভাবিক নয়। সম্পর্কের ভাঙন, কর্মব্যস্ততা বা দূরত্ব সব মিলিয়ে অনেকেই নিঃসঙ্গতার সাগরে ভাসেন। এই সময় বই হয়ে উঠতে পারে এক অনন্য সঙ্গী। মন ভালো করা গল্প, জীবনী, রহস্য-রোমাঞ্চ, অ্যাডভেঞ্চার কিংবা ফ্যান্টাসি এসব বই পাঠককে এমন এক জগতে নিয়ে যায়, যেখানে বাস্তবের কষ্ট কিছুক্ষণের জন্য আড়ালে চলে যায়। আবার কারও ব্যক্তিগত অবসাদ থেকে উঠে আসার কাহিনি পড়লে নিজের মধ্যেও আশার আলো জ্বলে ওঠে। গল্পের চরিত্রদের সঙ্গে মানসিক সখ্য গড়ে ওঠে; তারা যেন আমাদের অদৃশ্য বন্ধু হয়ে ওঠে।

মনোসংযোগে ভরসা (Book)
বর্তমান যুগে মনোযোগের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মনকে খণ্ডিত করে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে মনোসংযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে ওয়ার্কবুক-ধাঁচের গাইডবুক বা সিবিটি-নির্ভর বই। এ ধরনের বইয়ে নানা অনুশীলন, ধ্যানপদ্ধতি বা মনঃসংযোগ বাড়ানোর কৌশল থাকে। নিয়মিত চর্চা করলে মন ধীরে ধীরে স্থির হতে শেখে। একই সমস্যায় ভোগা মানুষের ব্যক্তিগত জার্নাল বা অভিজ্ঞতার লেখা পড়লে পাঠক বুঝতে পারেন এই লড়াই কেবল তাঁর একার নয়। এই উপলব্ধিই মনকে স্থিতি দেয়।

আরও পড়ুন: Jitu: জিতু ভাইয়ার সরল হাসি উধাও, মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকারে পা রাখলেন জিতেন্দ্র
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গী
হতাশা, ব্যর্থতা বা নেতিবাচকতা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই সময় মোটিভেশনাল বা সেলফ-হেল্প বই নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। সফল মানুষের জীবনী বা আত্মজীবনী আমাদের শেখায় প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি। প্রেম বা সম্পর্কের গল্পও মানুষের মনের ভেতর এক ধরনের উন্মুক্ততা সৃষ্টি করে। অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখায়, সহমর্মিতা বাড়ায়। সমাজের সঙ্গে মিশতে, নিজেকে প্রকাশ করতে উৎসাহিত করে যা আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।



