Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কিছু অংশে, বিশেষ করে পাঞ্জাব ও জম্মুর গ্রামীণ ও কৃষি অঞ্চলে এক অদ্ভূত দৃশ্য দেখা যায়। কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায় খালি কাঁচের বোতল। রোদে ঝিলমিল করা বা হাওয়ায় ঠোকাঠুকির শব্দ তোলা এই বোতলগুলো প্রথম দেখায় সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর ও কঠোর পাহারায় থাকা এই সীমান্তে কিছুই আকস্মিক নয়(Border Security)।
সহজ কিন্তু কার্যকর সতর্কবার্তা (Border Security)
আসলে এই খালি কাঁচের বোতলগুলো একটি সহজ কিন্তু কার্যকর সতর্কবার্তার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বাতাসে দুলে বোতলগুলো একে অপরের সঙ্গে ও তারের বেড়ায় ঠুকে টুংটাং শব্দ তোলে। কেউ যদি বেড়া কাটতে, টপকে উঠতে, হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে বা তারে নাড়াচাড়া করতে চায়, সঙ্গে সঙ্গে বোতলগুলো জোরে ঝনঝনিয়ে ওঠে। এতে কাছাকাছি থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানরা সতর্ক হয়ে যান।
সহজলভ্য, সস্তা, টেকসই সুরক্ষা (Border Security)
রাতের অন্ধকারে বা বিস্তীর্ণ চাষের জমি ও নদীমাতৃক এলাকায় যেখানে নজরদারি কঠিন, সেখানে এই পদ্ধতি বাড়তি সুরক্ষা তৈরি করে। কাঁচের বোতল সহজলভ্য, সস্তা, টেকসই এবং ধাতব তারে ঠুকলে তীক্ষ্ণ শব্দ হয় এটাই এর বড় সুবিধা। বিদ্যুৎ বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই, রক্ষণাবেক্ষণে খরচও নেই। তাই উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি এই সরল পদ্ধতিও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: Raigunj Heroine: নির্বাচনের মুখে বড় সাফল্য: রায়গঞ্জে সাড়ে ৩ কোটির হেরোইনসহ পাকড়াও মালদার যুবক
সবচেয়ে কার্যকর অ্যালার্ম (Border Security)
পুরো সীমান্তজুড়ে কিন্তু এই ব্যবস্থা নেই। রাজস্থানের মরুভূমি, গুজরাটের জলাভূমি, পাঞ্জাবের সমতলভূমি বা জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। তবে যেখানে অতীতে চোরাচালান বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে, সেসব অঞ্চলে বোতল ঝুলিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা আর ফ্লাডলাইটের যুগেও কখনও কখনও সবচেয়ে কার্যকর অ্যালার্ম হল সাধারণ এক টুংটাং শব্দ। সীমান্ত সুরক্ষায় তাই প্রতিটি শব্দই গুরুত্বপূর্ণ।



