Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক এলাকায় (Bangladesh)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেও প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। মানবাধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা এই তিনটি প্রশ্নকে সামনে এনে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা।

মালদহের মনোহরপুর মুচিয়ায় ধর্মীয় প্রতিবাদ (Bangladesh)
বুধবার মালদহ জেলার ওল্ড মালদহ থানার অন্তর্গত মনোহরপুর মুচিয়ায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে হিন্দু সনাতনী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। খোল ও করতাল হাতে নিয়ে ধর্মীয় আবহে তাঁরা রাস্তায় নামেন। মিছিল জুড়ে ওঠে স্লোগান, “হিন্দু-হিন্দু ভাই, ভাই”, “বিশ্বের সব হিন্দু এক হও”। প্রতিবাদকারীদের দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন চলছে এবং দীপু দাস হত্যাকাণ্ড তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।
“আমরা কাঁটাতার মানব না” (Bangladesh)
প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া জ্যোৎস্না সরকার বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে খুন করার ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত। এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। দোষীদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে প্রতিবাদ আরও জোরালো হবে। আমরা আর কাঁটাতার মানব না।” অন্য এক আন্দোলনকারী আরও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিশ্বের সব হিন্দু এক হও। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ হোক। আরও একজন হিন্দুর উপর অত্যাচার হলে আমরা কোনও বাধা মানব না। এই আন্দোলনের ঢেউ বাংলাদেশে আছড়ে পড়বে। ইউনুস, সতর্ক হও।” এই মন্তব্যগুলি সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

পেট্রাপোল সীমান্তে বিজেপির বিক্ষোভ (Bangladesh)
মালদহের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্তেও প্রতিবাদে সামিল হয় বিজেপি। সেখানে প্রতীকীভাবে কুশপুতুল দাহ করে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানো হয়।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার-সহ একাধিক জেলা নেতৃত্ব।
“এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়” (Bangladesh)
বিক্ষোভস্থলে বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার বলেন, “বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শুধু ওপার বাংলার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্য বিপদ। সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যেভাবে অত্যাচার চলছে, তা বন্ধ হওয়া দরকার। এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী শিবির।

আরও পড়ুন: Bangladesh: নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতেই হাদিকে খুন: ইউনুস সরকারকে হুঁশিয়ারি হাদির দাদার
কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ
দীপু দাস হত্যাকাণ্ড এবং তার জেরে সীমান্তবর্তী এলাকায় যে ক্ষোভ ও আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তা ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের উপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার প্রশ্ন, অন্যদিকে সীমান্ত শান্তি বজায় রাখার দায় এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন দুই দেশের প্রশাসনের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ।



