Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উৎসবের মৌসুমে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে (Brides for Sale Pakistan)। কিন্তু এই আনন্দের আবহেই চলছে ভয়ঙ্কর এক কারবার দেদার বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানের নাবালিকা ‘কনে’। এই ঘটনা নতুন নয়। বছরের পর বছর চীনে নাবালিকা কনেদের পাচার করছে পাকিস্তান। আগেও এমন তথ্য ফাঁস হয়েছে, তবুও থামেনি এই ব্যবসা। চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব অটুট রাখতে পাকিস্তান আজও নির্ভরশীল সেই কালো কারবারের উপর।

কোথায় বসে ‘কনের বাজার’? (Brides for Sale Pakistan)
পাকিস্তানের কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় বসে না এই বাজার। যখন তখন যেকোনও অঞ্চল থেকেই নাবালিকাদের পাচার করা হয় চীনে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। মূলত পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত এলাকাগুলিতেই এই পাচার কার্যক্রম চলে। সীমান্তবর্তী গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকেই বিক্রি করে দেওয়া হয় মেয়েদের।
কোন ধর্মের নাবালিকাদের চাহিদা বেশি? (Brides for Sale Pakistan)
তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নাবালিকাদেরই সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয়। বয়স সাধারণত ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই দারিদ্র্যের কারণে এই পাচারের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে।

কত দামে বিক্রি হয় নাবালিকা কনে? (Brides for Sale Pakistan)
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মেয়েদের বয়স, সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় দাম। ভারতীয় মুদ্রায় দুই থেকে নয় লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় এই ‘কনে’দের। চীনের ধনী পুরুষদের কাছে এগুলোর চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন দাসত্ব! (Brides for Sale Pakistan)
দারিদ্র্য ঘোচানোর আশায় পরিবার নিজের কন্যাকে তুলে দেয় তথাকথিত ‘ধনী স্বামী’-র হাতে। কিন্তু বিয়ের পরেই শুরু হয় নরকযন্ত্রণার জীবন। অনেক নাবালিকাকে যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয়, কেউ কেউ হয়ে যায় গৃহপরিচারিকা। বিয়ের নামে চলে নির্মম যৌন অত্যাচার।
পুরো পরিবার জড়িয়ে পড়ছে পাচার (Brides for Sale Pakistan)
শুধু নাবালিকারা নয় কখনও কখনও ভাই-বোন বা এমনকি পুরো পরিবারও চীনে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যরা ফিরে আসে পাকিস্তানে, কিন্তু কনেদের আর ফেরা হয় না। ২০১৯ সালেই শুধু ৬২৯ জন নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চীনে বিক্রি করা হয়েছে।

কীভাবে চলে এই পাচারের নেটওয়ার্ক? (Brides for Sale Pakistan)
এই পাচার সম্পূর্ণ বেআইনি পথে সংগঠিত হয়। নকল পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে চীনের সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হয় নাবালিকাদের। কখনও আজারবাইজান ঘুরিয়েও চীনে পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের। ‘কনে’ হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত তারা হয়ে ওঠে আজীবনের যৌন দাসী।
আরও পড়ুন: Mount Everest: নেপাল নয়, ভারত থেকেই দেখা গেল মাউন্ট এভারেস্ট কীভাবে সম্ভব?
অন্ধ বন্ধুত্বের মূল্য
চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব বজায় রাখার তাগিদে পাকিস্তান এই মানব পাচারের বিষাক্ত চক্র ভাঙতে পারছে না। আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, প্রশাসনিক স্তরে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলত, একের পর এক নাবালিকার জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অন্ধ সহযোগিতার অন্ধকারে।



