Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার অন্তর্গত কালিকাপুর এলাকায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় আহত হলেন অন্তত ৪৫ জন যাত্রী (Bus Accident)। বাস ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সড়কের একাংশ। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক স্টিয়ারিংয়ের মধ্যে আটকে পড়েন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিজেপির কর্মসূচি থেকে ফেরার পথেই দুর্ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় জনতা পার্টির একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরে গিয়েছিলেন একদল দলীয় কর্মী। কর্মসূচি শেষে তাঁরা একটি যাত্রীবাহী বাসে করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে চন্দ্রকোনার কালিকাপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লরির সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটির সামনের অংশ কার্যত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। বাসের মধ্যে থাকা বহু যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন এবং অনেকেই গুরুতরভাবে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন (Bus Accident)।
বাসের ভিতরে আটকে পড়েন চালক (Bus Accident)
দুর্ঘটনার পর বাসের চালক স্টিয়ারিং ও গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মধ্যে আটকে পড়েন। তাঁকে বের করতে প্রথমে স্থানীয় মানুষজন চেষ্টা করলেও পরে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বাসের জানালার কাচ ভেঙে এবং গাড়ির সামনের অংশ কেটে চালককে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধারকাজ। চালকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তখনও কিছু জানানো হয়নি।
সংকটজনক অবস্থায় কয়েকজন (Bus Accident)
দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অন্তত ছয়জন আহত যাত্রী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চন্দ্রকোনা মহকুমা হাসপাতাল-সহ নিকটবর্তী বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। হাসপাতালে একসঙ্গে এত সংখ্যক আহত পৌঁছনোর ফলে জরুরি বিভাগে তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
আহতদের পাশে বিধায়ক শীতল কাপাট (Bus Accident)
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে পৌঁছে যান ঘাটালের বিধায়ক শীতল কাপাট। তিনি আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে উদ্ধার ও চিকিৎসা পরিষেবা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় মানুষের মানবিক উদ্যোগ (Bus Accident)
দুর্ঘটনার পর প্রথম মুহূর্ত থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দেন। কেউ আহতদের বাস থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেন, কেউ আবার অ্যাম্বুল্যান্স আসার আগেই ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পুলিশ ও দমকল কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন বহু সাধারণ মানুষ।
যান চলাচলে বিঘ্ন, তদন্ত শুরু পুলিশের
দুর্ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে ট্রাফিক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। একইসঙ্গে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, চালকের গাফিলতি, অতিরিক্ত গতি নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি এর জন্য দায়ী তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: Punjab Education: প্রশ্নফাঁস বিতর্কে পাঞ্জাবে রাজনৈতিক তোলপাড়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির
প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক রিপোর্টের অপেক্ষা
দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা, তাঁদের শারীরিক অবস্থা এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।



