Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের সিএএ আবেদনকারীদের আবেদন ১০ (CAA) দিনের মধ্যে বিবেচনা করবে কেন্দ্র। সোমবার সিএএ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে জানালেন কেন্দ্রের আইনজীবী। শুধুমাত্র এই মামলার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রেই একমাত্র এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। তবে দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে এই ধরনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেখানকার আবেদনকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিবেচিত হবে না।
কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা (CAA)
সিএএ-তে আবেদনকারীরা যাতে এসআইআর-এর মাধ্যমে সংশোধিত ভোটার (CAA) তালিকায় নাম তুলতে পারেন, সেই আবেদন জানিয়ে গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। সিএএ-তে আবেদনের রসিদকে যেন এসআইআর-এ অনুমোদন করা হয়, হাইকোর্টে সেই আবেদন জানায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে সোমবার এই আবেদনের মামলার শুনানি হয়। এদিন সেই মামলাতেই আদালতে বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুসারে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন ১০ দিনের মধ্যে বিবেচনা করা হবে বলে সোমবার আদালতে জানালেন কেন্দ্রের আইনজীবী।
শুধু রাজ্যের আবেদনে ১০ দিনে সাড়া (CAA)
গোটা দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিএএ এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের (CAA) আবেদন করেছেন। তারমধ্যে যারা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন ১০ দিনের মধ্যে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মায়ানমার থেকে যারা বেআইনিভাবে এ দেশে এসেছেন, তাদের সিএএ-এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। দশ দিনের মধ্যে এই আবেদনগুলি বিবেচনা করা হবে। শুধুমাত্র এই মামলার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রেই একমাত্র এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। তবে দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে এই ধরনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেখানকার আবেদনকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিবেচিত হবে না বলে সোমবার আদালতে জানিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্র-রাজ্য তরজা জারি
সোমবার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী আদালত কে জানান, এক্ষেত্রে রাজ্যের কোনও ভূমিকা নেই। সব কিছুই করছে নির্বাচন কমিশন। পাল্টা কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল আশোক চক্রবর্তী এদিন আদালতে দাবি করেন, ৯০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে আবেদন পাঠাতে হয় রাজ্যকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। রাজ্য কেন্দ্রকে কিছু পাঠায়নি।
‘আবেদন বিবেচনা হোক’
এদিন শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী মৈনাক বসু আদালতে বলেন, ‘এই জনস্বার্থ মামলায় সকলের কথা বলা হয়েছে। গোটা দেশ থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। যে আবেদনগুলি পড়ে আছে সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী? এই সমস্ত আবেদনগুলি বিবেচনা করে হয় কেন্দ্র অনুমতি দিক, না হলে বাতিল করুক। দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। তাছাড়া, এসআইআর-এর এনুমারেশন ফর্মেও এদের জন্য কোনও জায়গা রাখা হয়নি।’
আরও পড়ুন: Thailand: ট্রাম্প-সচেষ্ট থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া শান্তিচুক্তি স্থগিত, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে উত্তেজনা
তবে এরপরেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না আবেদনকারীদের। যারা সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন, তাদের কি নতুন কোনও এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হবে? নাকি যে ফর্ম আছে তার সঙ্গে কোনও নথি জমা দিতে হবে। সেই নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে থাকতে হবে আবেদনকারীদের।


