Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: বনগাঁয় সিপিআইএম-কে বুক স্টল করার (CPIM Book Stall) অনুমতি দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর সিঙ্গেল বেঞ্চ। সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশের খারিজ করে বামেদের বুক স্টল করার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
সিঙ্গল বেঞ্চকে চ্যালেঞ্জ (CPIM Book Stall)
বৃহস্পতিবারই বনগাঁয় যশোর রোডে সিপিআইএম-কে বুক স্টল করার অনুমতি দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য-র সিঙ্গেল বেঞ্চ। পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে বুক স্টল করতে দিতে হবে বলে নির্দেশে জানিয়েছিলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য্য। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। শুক্রবার সেই মামলায় বনগাঁয় সিপিআইএম-এর বুক স্টল করার সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে অনুমতি খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। ছাতা-টেবিল পেতেও স্টল করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। মামলায় সব পক্ষকে নোটিশ ইস্যু করানো নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আগামী ২১ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
আবেদন জানানো হয়েছিল?
শুক্রবার শুনানিতে সিপিআইএম-এর আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতকে জানান, ‘পূর্ত দফতর এবং হাইওয়ে অথরিটির কাছে অনুমতি চেয়ে ইমেইল করা হয়েছিল। পুলিশকেও সেই আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কোথায় অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল সেটা দেখান। যদি আপনাদের আবেদনে অনুমতি না দেওয়া হয় তাহলে পুলিশ কী করবে?’
আরও পড়ুন: High Court: পঞ্চমীতে স্বস্তির খবর,বনগাঁয় বামেদের বুকস্টল করার অনুমতি হাইকোর্টের
এরপরই প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, ‘অনুমতি না থাকলে কারও স্টল করার প্রয়োজন নেই। রাস্তার ধারের সব স্টল তুলে দিতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান।’ এরপরই মামলাকারী আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের স্টলটা কোথায়? রাস্তার উপরে?’ তার উত্তরে সিপিআইএম এর আইনজীবী জানান, তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনেই স্টল করা হয়। প্রধান বিচারপতি আবারও প্রশ্ন করেন, ‘রাস্তার ধারে যে অন্য স্টলগুলি রয়েছে সেই একই লাইনে রয়েছে সিপিআইএম-এর বুক স্টল? নাকি রাস্তার দিকে একটি বেশি এগোনো আছে?’ তার উত্তরে সিপিআইএম-এর আইনজীবী জানান, বাকি স্টলগুলোর মতো একই লাইনে রয়েছে।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতকে জানান, বাকি স্টলগুলোর অনুমতি আছে কিনা, তা তাঁদের জানা নেই। তারপরই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা স্টল সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেব। আইনের চোখে সবাই সমান। সব স্টল তুলে দিন।’
অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে বলেন, অনুমতি ছাড়া কী করে বুক স্টল করতে দেওয়া সম্ভব? তখন সিপিআইএম-এর আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, ‘দুর্গাপুজো আর ৩-৪ দিন বাকি রয়েছে। আমাদের বুক স্টল করতে দেওয়া হোক। মাইক, মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে আমাদের বুক স্টল চালাতে দেওয়া হোক।’ সেই সঙ্গে সিপিআইএম-এর আইনজীবী আদালতকে প্রস্তাব দেন, ‘পার্টি অফিসের সামনে ৫ ফুট লম্বা টেবিল পেতে ছাতা নিয়ে বুক স্টল করতে দেওয়া হোক। ছাউনির প্রয়োজন নেই।’ সেই শুনে এজি বলেন, ‘এখানে বনগাঁ থানার আইসি উপস্থিত রয়েছেন। বুক স্টল থেকে বাংলাদেশ বর্ডারের দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার।’ তখনই প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, টেবিল, ছাতা পেতেও বুক স্টল করা যাবে না


