Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতার বসাতে বিএসএফ-এর হাতে জমি অধিগ্রহণ করে তুলে দিতে রাজ্যকে ডেডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। যে সমস্ত অধিগৃহীত জমির দাম ইতিমধ্যেই কেন্দ্র দিয়েছে, সেই সমস্ত জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে হস্তান্তর করতে রাজ্যকে নির্দেশ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জরুরি ভিত্তিতে সীমান্তে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কিনা, সেই নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্যের উপরে শুনানি করবে আদালত। সেই কারণে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

টাকা দিয়েও জমি পাচ্ছে না বিএসএফ (Calcutta High Court)
রাজ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত জায়গায় দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজ শেষ করতে এবার ডেডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্তবর্তী এলাকায় যে সমস্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে, তা অবিলম্বে কেন্দ্র তথা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে রাজ্যকে। মঙ্গলবার এমনই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ।
পশ্চিমবঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে বিস্তীর্ণ এলাকা অরক্ষিত রয়েছে। সেখানে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া বসানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় জটিলতা। কাঁটাতারের ঘরে না বসানোর জন্য রাজ্যকে জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে আবেদন করা হয় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। কিন্তু কেন্দ্রের অভিযোগ রাজ্য জমি অধিগ্রহণ করে দিচ্ছে না। মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের আইনজীবী অভিযোগ করেন অধিকৃত জমির দাম রাজ্যকে দিয়ে দেওয়া হলেও এখনো জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, যে সমস্ত অধিগৃহীত জমির জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে সেই সমস্ত জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আদালতের কড়া প্রশ্ন (Calcutta High Court)
এদিন শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘কেন নিজস্ব অধিকার বলে রাজ্য জমি অধিগ্রহণ করছে না?এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে কেন রাজ্য জমি অধিগ্রহণ করবে না? যে রাজ্য আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার, তারা কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না, আমরা তো অবাক হয়ে যাচ্ছি!’ কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতকে জানান, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জেলার কালেক্টর সরাসরি জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই বিষয়ে একাধিকবার রাজ্যকে জানালেও রাজ্যের ক্যাবিনেট কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে অভিযোগ করেন এএসজি। সেই সঙ্গে অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে কিভাবে ড্রাগ চোরাচালান হয়, তাও আদালতের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
জোর করে জমি অধিগ্রহণে আপত্তি (Calcutta High Court)
যদিও রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে জোর করে বা বল প্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণের বিরোধী রাজ্য। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া রাজ্য ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করতে চায় না। তবে রাজ্যের আইনজীবী এদিন আদালতকে জানান, যে সমস্ত জমির দাম ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে সেই সমস্ত জমি আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই হস্তান্তরের কাজ হয়ে যাবে। তবে দু তিনটে জেলায় জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে একটু সময় লাগবে বলে আদালতকে জানাই রাজ্য। রাজ্যের দাবি অনুযায়ী দক্ষিণ দিনাজপুরে আগামী মে মাসে এবং জলপাইগুড়ি ও মুর্শিদাবাদে জুন মাসের মধ্যেই জমি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
১৮০ কিলোমিটার সীমান্তে টাকা দিয়েছে কেন্দ্র
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইতিমধ্যেই প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালতে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জরুরি ভিত্তিতে সীমান্তে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কিনা, সেই নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্যের উপরে শুনানি করবে আদালত। সেই কারণে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।



