Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত এক দশকে কানাডার বড় শহরগুলো, টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিয়ল, অটোয়া দ্রুত জনবসতি, অভিবাসন এবং চাকরির বাজারের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন দেখেছে (Canada)। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেটের দাম এবং ভাড়া ক্রমাগত বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গড় আয়ের তুলনায় মাসিক ভাড়ার পরিমাণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালানো তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রছাত্রী বা নতুন চাকরিজীবীদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

বাড়িভাড়ার অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি (Canada)
- শহরের কেন্দ্র বা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একক রুমের ভাড়াই অনেক সময় মাসে হাজার ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।
- আয়ের বড় অংশ ভাড়ায় চলে যাওয়ায় তরুণ-তরুণীদের জন্য সঞ্চয় বা মৌলিক প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, নতুন অভিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা ভাড়ার জন্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
সংকটের সুযোগে বেআইনি প্রস্তাব (Canada)
এই ভাড়ার চাপকেই পুঁজি করে কিছু অসাধু বাড়িওয়ালা ও দালাল নতুন এক বিকৃত ‘চুক্তি’ তৈরি করেছেন “সেক্স-ফর-রেন্ট”। অনলাইন ভাড়া বিজ্ঞাপন, ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে প্রলুব্ধকর বার্তা দেওয়া হচ্ছে
- “ভাড়া মেটাতে হবে না, কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখতে হবে।”
- “সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ—প্রয়োজন কেবল পারস্পরিক বোঝাপড়া।”
প্রথমে সাধারণ বিজ্ঞাপন মনে হলেও ব্যক্তিগত বার্তালাপের পর ভাড়াটেকে স্পষ্টভাবে যৌন সম্পর্কের শর্ত দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি চুক্তিপত্রে ভাড়া মওকুফের বিনিময়ে ‘সহবাস’ বা ‘ইনটিমেট কম্প্যানিয়নশিপ’-এর কথা উল্লেখ থাকে।
লক্ষ্যবস্তু কারা? (Canada)
- প্রধানত তরুণী ছাত্রছাত্রী, বিদেশি শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের একক নারী।
- নতুন চাকরিজীবী বা শহরে সদ্য আসা অভিবাসীরা, যাঁদের সামাজিক নেটওয়ার্ক সীমিত।
- আর্থিক দুরবস্থায় থাকা মানুষ, যারা বিকল্প বাসস্থান খুঁজে পাচ্ছেন না।
তাদের মধ্যে অনেকেই আতঙ্ক, লজ্জা বা সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। এর ফলে অপরাধীরা প্রায় শাস্তিহীন থেকে আরও সাহসী হয়ে ওঠে।
আইনি অবস্থান (Canada)
কানাডার ফেডারেল ও প্রাদেশিক আইন অনুসারে—
- ভাড়াটের কাছ থেকে জোর করে বা চাপে ফেলে যৌন সুবিধা দাবি করা স্পষ্টত যৌন হয়রানি ও অপরাধের আওতায় পড়ে।
- “কনসেন্ট” বা সম্মতি যদি অর্থনৈতিক চাপ বা আবাসন সংকটের কারণে বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হয়, সেটি বৈধ নয়।
কিন্তু বাস্তবে প্রমাণ জোগাড় কঠিন। ভুক্তভোগীরা প্রায়শই আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেন না; অভিযোগ জানালেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে মামলা এগোয় না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক কলঙ্কের ভয় অনেককে নীরব থাকতে বাধ্য করে।

মানবাধিকার সংগঠন ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া (Canada)
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নারী অধিকার সুরক্ষা গোষ্ঠী বিষয়টিকে “শোষণের আধুনিক রূপ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে
- অর্থনৈতিক সংকটকে অজুহাত করে নারীদের দেহব্যবসায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
- এই প্রবণতা সমাজে ভয়াবহ বার্তা ছড়াচ্ছে—যেন আর্থিক চাপ পড়লেই যৌন সম্পর্ককে ‘বিকল্প সমাধান’ হিসেবে মেনে নিতে হবে।
- দীর্ঘমেয়াদে এটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সমাধানের পথ কোথায়?
আবাসন বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক গবেষকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন
- সাশ্রয়ী হাউজিং স্কিম: ছাত্রছাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকার-নিয়ন্ত্রিত সস্তা ফ্ল্যাট ও হোস্টেল বাড়াতে হবে।
- নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি: অনলাইন ভাড়া বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কড়া পর্যবেক্ষণ, অবৈধ প্রস্তাব শনাক্ত ও সরিয়ে দেওয়া।
- আইনি সহায়তা ও হেল্পলাইন: ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি।
- সচেতনতা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিবাসী সম্প্রদায় ও তরুণদের মধ্যে সচেতনতা প্রচার—কোন আচরণ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং কোথায় সাহায্য পাওয়া যায়।
- দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: নগর পরিকল্পনা ও আবাসন নীতি এমনভাবে সাজানো যাতে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সামাল দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: Hokkaido: প্রেম বয়েস মানে না, প্রতারণার খেলায় মাতে?
সেক্স-ফর-রেন্ট!
কানাডার আবাসন সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, গভীর সামাজিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। “সেক্স-ফর-রেন্ট” প্রবণতা সেই সংকটের এক ভয়াবহ প্রকাশ, যা নারী-পুরুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নৈতিকতার ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এটি আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের উপর মানসিক-সামাজিক ক্ষত তৈরি করবে।



