Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : চিনের রাজধানী বেজিঙে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ও জাপানের বিরুদ্ধে বিজয় স্মরণে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজ ঘিরে ফের তোপ দাগলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Trump On China Military Show)। তাঁর দাবি, এই কুচকাওয়াজ মূলত তাঁকেই উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সরাসরি অভিযোগ (Trump On China Military Show)
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে (Trump On China Military Show) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প (Donald J. Trump) বলেন,
“আমি ভেবেছিলাম এটা দারুণ একটা অনুষ্ঠান। পরে বুঝলাম, আসলে আমায় দেখানোর জন্যই করা হয়েছে। আমি দেখেছিও।”
এর আগে থেকেই তিনি বিজয় উৎসবে আমেরিকার অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কথায়, চিনের স্বাধীনতা ও গৌরব ফেরানোর জন্য বহু আমেরিকান প্রাণ দিয়েছেন, অথচ তাঁদের ত্যাগের যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি।
কুচকাওয়াজের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট (Trump On China Military Show)
বুধবার বেজিঙের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে এই কুচকাওয়াজে হাজির ছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম জং উন। পশ্চিমি দুনিয়ার নজরে এই মঞ্চ কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক বার্তাও বটে।
চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং নাম না করে আমেরিকাকে কটাক্ষ করে বলেন,“চিন কখনই কোনও গুন্ডামিতে ভয় পায় না। চিন সর্বদা এগিয়ে যাবে।”
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, আমেরিকার চাপের কাছে মাথা নোয়াবে না বেজিং।

আরও পড়ুন : Vande Bharat Sleeper Train : বিহারে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরেই
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে ট্রাম্প(Trump On China Military Show)
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন(Trump On China Military Show)। ১৯৩০ ও ৪০-এর দশকে চিন-জাপান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানি বিমানবাহিনী পার্ল হারবারে আক্রমণ চালায়। সেই হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়— ডুবে যায় চারটি যুদ্ধজাহাজ, ধ্বংস হয় ১৮৮টি বিমান, প্রাণ হারান প্রায় ২,৪০৩ জন মার্কিন সেনা। ট্রাম্প বলেন, সেই ত্যাগও অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
চিন-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন(Trump On China Military Show)
শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের আবহে এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। একদিকে বাণিজ্যে আমেরিকা-চিন সংঘাত তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক কুচকাওয়াজে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে বেজিং।
চিনের কুচকাওয়াজ ঘিরে ট্রাম্পের ক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন। শক্তি প্রদর্শনের এই লড়াই আসন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই এখন নজর বিশ্ববাসীর।


