Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: অন্যতম জনপ্রিয় পোষা প্রাণী বিড়াল (Health tips)। অনেকেই যদিও বিড়ালকে খুব একটা পছন্দ করেন না, তবুও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিড়ালকে গ্রহণ করেছে। এর পেছনে রয়েছে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও মানসিক কারণ। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, বিড়ালের উপস্থিতি শুধু আদরের বিষয় নয়, বরং মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

মানসিক চাপ কমায় (Health tips)
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে যায়। বিড়ালের উপস্থিতিতে কর্টিসল নামক দুশ্চিন্তার হরমোনের মাত্রা হ্রাস পায়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিড়ালের মায়াবী আচরণ, নরম স্পর্শ ও খুনসুটি মস্তিষ্কে প্রশান্তি এনে দেয়।
রাগ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক (Health tips)
বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে শরীরে ‘সেরোটোনিন’ ও ‘ডোপামিন’ জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। এগুলো মানুষকে আরামদায়ক অনুভূতি দেয় এবং রাগ, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই বিড়ালের সান্নিধ্য মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
বিড়ালের গরগর শব্দে থেরাপি (Health tips)
- বিড়ালের ডাক ২০–১৪০ হার্জ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তৈরি করে, যা পেশি ও হাড়ের প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।
- গরগর শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি (২৫–১৫০ হার্জ) হাড় দ্রুত সেরে ওঠায়, পেশি মেরামতে সাহায্য করে এবং শরীরকে শান্ত করে।
এটি এক প্রকার প্রাকৃতিক সাউন্ড থেরাপি।
শিশুদের অ্যালার্জি কমায় (Health tips)
২০০২ সালে ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়, যেসব শিশু এক বছরের মধ্যে বিড়ালের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠে, তাদের বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেক কম থাকে। ফলে বিড়াল শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতেও সহায়ক হতে পারে।
ঘুমের মান উন্নত করে
গবেষণা বলছে, বিড়ালের উপস্থিতিতে মানুষের ঘুম আরও গভীর ও আরামদায়ক হয়। অনেকেই বিড়ালকে ঘুমের সঙ্গী হিসেবে রাখলে অনিদ্রার সমস্যা কম অনুভব করেন।
সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করে
বিড়ালের সঙ্গে মানুষের বন্ধন কেবল মানসিক নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিড়ালমালিকরা সাধারণত উদার, কৌতূহলী ও কল্পনাপ্রবণ হয়ে থাকেন। এছাড়া বিড়াল সামাজিক উদ্বেগে ভোগা মানুষের জন্য সঙ্গীর ভূমিকা পালন করে।
একাকিত্ব দূর করে
বিড়ালের সঙ্গ একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা কমায়। তাদের মজার আচরণ, খেলাধুলা ও খুনসুটি মানুষের মনে আনন্দ জাগায়। ফলে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে বিড়াল বিশেষ ভূমিকা রাখে।
শারীরিক স্বাস্থ্যে উপকার
- হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- হতাশা ও বিষণ্নতা দূর করে।
যত্নশীল ও দায়িত্ববান হতে শেখায়
বিড়াল পোষা মানে প্রতিদিন নিয়মিত যত্ন নেওয়া। এভাবে মানুষ নিজের জীবনেও নিয়ম তৈরি করতে শেখে এবং দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। ফলে তারা নিজের প্রতিও যত্নবান হয়।
আরও পড়ুন: Ganesh Chaturthi Horoscope: গণেশ চতুর্থীতে ৬টি শুভ যোগ, ভাগ্য খুলবে চার রাশির!
অশুভ শক্তি দূর করার বিশ্বাস
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্বাস করা হয়, বিড়াল ঘরে থাকলে অশুভ শক্তি বা দুষ্ট আত্মা প্রবেশ করতে পারে না। রাশিয়ার গ্রামাঞ্চলে এ বিশ্বাস এখনও প্রচলিত। যদিও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও মানুষের মনে ইতিবাচক মনোভাব জাগাতে সাহায্য করে।



