Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তীর্থযাত্রা। যুগ যুগ ধরে ভক্তরা পবিত্র স্থানে গিয়ে ঈশ্বরের দর্শন লাভ করার মাধ্যমে আত্মিক শান্তি ও মুক্তির সন্ধান করে থাকেন (Char Dham Yatra)। এই তীর্থযাত্রাগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রা। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত চারটি পবিত্র মন্দিরকে কেন্দ্র করে এই যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। ২০২৬ সালেও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে চারধাম যাত্রা শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে যে ৬ মার্চ, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে এই যাত্রার জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা, সুবিধা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

চারটি পবিত্র ধাম ও তাদের ধর্মীয় গুরুত্ব (Char Dham Yatra)
চারধাম যাত্রা মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় কেদারনাথ মন্দির, বদ্রীনাথ মন্দির, গঙ্গোত্রী মন্দির এবং যমুনোত্রী মন্দির। হিন্দু ধর্মে এই চারটি মন্দিরের বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। যমুনোত্রী মন্দির দেবী যমুনার উৎসস্থলে অবস্থিত। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী যমুনার কৃপা মানুষের জীবনের নানা দুঃখ দূর করে। অন্যদিকে গঙ্গোত্রী মন্দিরকে পবিত্র গঙ্গা নদীর উৎসস্থান হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়। কেদারনাথ মন্দির ভগবান শিবের অন্যতম প্রধান জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত এই মন্দিরকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গভীর ভক্তির সঙ্গে পূজা করেন। অন্যদিকে বদ্রিনাথ মন্দির ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম পবিত্র ধাম হিসেবে পরিচিত। চারটি মন্দিরের এই সমন্বয়ই চারধাম যাত্রাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও মুক্তির ধারণা (Char Dham Yatra)
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চারধাম যাত্রা মানুষের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সাধনা। মনে করা হয়, এই চারটি পবিত্র ধাম দর্শন করলে মানুষের পাপ ক্ষয় হয় এবং আত্মা মুক্তির পথ খুঁজে পায়। অনেক ভক্তের বিশ্বাস, এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করলে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকেও মুক্তি লাভ করা সম্ভব। তবে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, হিমালয়ের অপার সৌন্দর্য এবং নির্জন পরিবেশও এই যাত্রাকে বিশেষ তাৎপর্য প্রদান করে। অনেক সাধক ও ভক্ত এই অঞ্চলে এসে ধ্যান ও সাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করেন। তাই চারধাম যাত্রা একদিকে যেমন ধর্মীয় আচার, অন্যদিকে তেমনি গভীর আধ্যাত্মিক অন্বেষণের পথ।

ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ (Char Dham Yatra)
প্রতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে চারধাম যাত্রা শুরু হলে হাজার হাজার ভক্ত উত্তরাখণ্ডে ভিড় জমায়। হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের থাকার ব্যবস্থা, খাবারের ব্যবস্থা এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে, যাত্রীর সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় প্রশাসনকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। সেই কারণেই এবার থেকে আগাম রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাত্রীদের নাম, ফোন নম্বর এবং ঠিকানা সংগ্রহ করা হবে। এতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে।
অনলাইন ও অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা (Char Dham Yatra)
তীর্থযাত্রীরা একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। এতে যাত্রার আগে থেকেই প্রশাসন যাত্রীদের সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করা যাবে। অন্যদিকে যাঁরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাত্রা শুরুর দুই দিন আগে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে অফলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এই রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার খোলা হবে ঋষিকেশ, হরিদ্বার এবং দেরাদুন শহরে।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
কখন খুলবে চারধামের দরজা
২০২৬ সালে চারধাম যাত্রার সূচনা হবে ১৯ এপ্রিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই দিনই পড়েছে হিন্দুদের একটি শুভ তিথি
অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিনেই গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হবে। এরপর ২২ এপ্রিল খুলবে কেদারনাথ মন্দিরের দরজা এবং ২৩ এপ্রিল খুলবে বদ্রিনাথ মন্দিরের দরজা। এই সময় থেকেই পূর্ণমাত্রায় তীর্থযাত্রা শুরু হবে এবং দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা এই পবিত্র স্থানে ভিড় জমাবেন।



