Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ‘ছায়ানট’ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয় (Chhayanat), এটি একটি আন্দোলন, একটি চেতনা। সেই ছায়ানটেই সম্প্রতি যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা নিছক ভাঙচুর বা লুটপাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ঘটনা একটি দেশের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত বলেই মনে করছেন বহু সংস্কৃতিপ্রেমী ও বুদ্ধিজীবী।

মামলার সংখ্যা সাড়ে ৩০০ ছুঁইছুঁই (Chhayanat)
ছায়ানটে হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ছায়ানটের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার দুলাল ঘোষ শনিবার ধানমন্ডি থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনায় ভাঙচুর, লুটপাট এবং হামলার একাধিক অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অস্থির সময়েই তাণ্ডব (Chhayanat)
এক সময়ে বাংলা ভাষা, বাঙালির সংস্কৃতি ও রবীন্দ্র-নজরুল চর্চাকে বাঁচাতে গড়ে উঠেছিল ছায়ানট। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠান জন্ম নিয়েছিল। সেই ছায়ানটই আবার আজ এক অস্থির সময়ে, উত্তাল বাংলাদেশে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের শিকার। এই হামলা শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং তা বাংলাদেশের সামগ্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি নগ্ন ছবি মুহূর্তের মধ্যে সামনে এনে দিয়েছে।
ওসমান হাদির মৃত্যু (Chhayanat)
বাংলাদেশের যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে যে অশান্তির সূচনা হয়, তা দ্রুত অরাজকতার রূপ নেয়। সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে ছায়ানট, উদীচীর মতো বহু সংস্কৃতি চর্চার পীঠস্থানও রেহাই পায়নি। একের পর এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপর হামলার ঘটনা গোটা দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
কীভাবে ধ্বংস করা হল ছায়ানট? (Chhayanat)
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা এক বিবৃতিতে জানান, ছয়তলা ভবনের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,, মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র, আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে, অন্তত ৭টি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন ও একাধিক হার্ড ডিস্ক লুট করা হয়েছে,,ছায়ানটের সার্ভার পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ছড়িয়ে পড়া লজ্জার ছবি (Chhayanat)
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছায়ানটের যে ছবিগুলি ছড়িয়ে পড়েছে, তা যে কোনও বাঙালির কাছেই লজ্জার। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে হারমোনিয়াম, এসরাজ, তবলা, তানপুরার পোড়া ও ভাঙা অংশ। যন্ত্রের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে যেন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাস।
আরও পড়ুন: TMC: প্রধানমন্ত্রীর সভার বিজ্ঞাপনে বানান ভুল, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
ঘটনার পর ছায়ানট পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রকের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত এবং কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ছায়ানটের পাশাপাশি ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’ সংবাদপত্রের অফিসেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলেই খবর। যা প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।



