Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রকৃতির একের পর এক ভয়াবহ আঘাতে বিপর্যস্ত নেপাল (China Earthquakes)। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজ রয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজ যখন চরম প্রতিকূলতার মধ্যে চলছে, ঠিক তখনই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম চিনে শক্তিশালী ভূমিকম্প। শুক্রবার ৫.১ মাত্রার কম্পনে কেঁপে ওঠে সিচুয়ান অঞ্চল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিব্বতের কাছে হিমবাহের জলে তৈরি একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসে। ফলে উত্তর নেপালে ফের হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দুপুরেই কেঁপে উঠল সিচুয়ান (China Earthquakes)
চিনের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তখন সকাল ১০টা ৪৩ মিনিট। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার বা CENC-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ২৯.২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ১০৫.২২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের উৎসস্থল। এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পরেই নতুন আতঙ্ক (China Earthquakes)
তবে ভূমিকম্পের খবরের পরপরই তিব্বত সংলগ্ন এলাকায় হিমবাহের জলে তৈরি একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসে। ফলে নেপালের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল জলরাশি নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আগেই ছিল ৭২ ঘণ্টার সতর্কতা (China Earthquakes)
এর আগে চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক নেপালকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্লাবনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে একটি হিমবাহ হ্রদ তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আশঙ্কা ছিল, পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমতে পারে। অতিরিক্ত জলের চাপে হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: Perfume: গন্ধকে সত্যিই বন্দি করা যায়! ‘পারফিউম’- সিনেমায় রয়েছে সেই রহস্য
উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ
এবার সেই আশঙ্কাই আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালের রাসুয়া ও ধাদিং জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। হড়পা বানের আশঙ্কায় সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজও স্থগিত রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভূমিকম্পের অভিঘাতেই বাঁধ ভেঙেছে, নাকি অতিরিক্ত জলের চাপে স্বাভাবিকভাবেই এই বিপর্যয় ঘটেছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালের সামনে যে নতুন ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।



