Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত ১৬ মে চিন ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর (China Pakistan Ties) উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কৌশলগত সমঝোতা আরও দৃঢ় করেছে। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, পাকিস্তান তার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চিনের উন্নত উপগ্রহ প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি পাবে। ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, যদিও এ ব্যাপারে বেজিং কিংবা ইসলামাবাদ থেকে এখনো কোনও অফিসিয়াল মন্তব্য আসেনি।
দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে (China Pakistan Ties)
ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পটভূমিতে এই বৈঠকের (China Pakistan Ties) তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী চিনের সমরাস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। চিনে নির্মিত পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের বিরুদ্ধে ভারত দেশীয় সমরাস্ত্র ব্যবহার করেও তাদের ক্ষতিসাধন করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতার পরিসরকে আরও জটিল করে তুলেছে।
‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মানের’ বিষয় (China Pakistan Ties)
এই প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে চিনকে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মানের’ বিষয়টি (China Pakistan Ties) স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “চিন নিশ্চয়ই জানে যে, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হল পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস এবং সংবেদনশীলতা।” ভারতের এই মন্তব্য চিন-পাকিস্তান সমঝোতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ভারতের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল কারণ চিনের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তা পাকিস্তানের সামরিক শক্তিকে আরও মজবুত করছে।
তিন দিনের চিন সফর
সম্প্রতি, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার তিন দিনের সফরে চিনে যান। তাঁর সফরের সময় বেজিং স্পষ্ট করে জানায় যে তারা ভারত ও পাকিস্তানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা বজায় রাখতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। চিনের এই অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত সমঝোতা
এই প্রেক্ষিতে, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত সমঝোতা যে শুধু সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট। দুই দেশের সম্পর্ক এখন কৌশলগত, প্রযুক্তিগত এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ভারত এই পরিবর্তনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তার কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ সেই অনুযায়ী সাজাচ্ছে।

নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি
ভারত-পাকিস্তানের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈরিতার মাঝে এই চিন-পাকিস্তান সমঝোতা নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য চিনের ভূমিকা ইতিবাচক থাকলেও, পাকিস্তানের সামরিক শক্তির বৃদ্ধি ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই কারণেই ভারত চিনকে বারবার সতর্ক করে আসছে যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে
সংক্ষেপে, সাম্প্রতিক বৈঠক এবং পাকিস্তান-চিন কৌশলগত সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। এটি শুধু একটি সামরিক বা কূটনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি সংকেত যে, ভবিষ্যতে এই অঞ্চল আরও জটিলতা ও প্রতিযোগিতায় ভরা হতে পারে। ভারত, চিন ও পাকিস্তানের এই নতুন কৌশলগত সম্পর্ক আগামীদিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


