Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিংড়িহাটায় মেট্রোরেলের বকেয়া কাজ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট(Chingrihata Metro)। উল্টে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ রাজ্যকে মামলা তুলে নিতেও বলে। না হলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। চিংড়িহাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্য সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
‘উন্নয়ন আটকে রাখার অযথা জেদ’ (Chingrihata Metro)
সোমবার সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘এখানে উন্নয়ন আটকে রাখার অযথা জেদ করা হচ্ছে। আপনারা কখনও বলছেন উৎসব চলছে, কখনও পরীক্ষা চলছে, এখন বলছেন নির্বাচন চলছে। আপনাদের সুযোগ দিচ্ছি, মামলা তুলে নিন। না হলে খারিজ করে দেব। জনসাধারণের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাইকোর্টের নির্দেশ ও বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনেই কাজ হবে।’
সমাধান মেলেনি বৈঠকে
চিংড়িহাটায় মেট্রোরেলের কাজ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। বিমানবন্দর থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন মেট্রো রুটে চিংড়িহাটায় ৩৬৬ মিটার পিলার তৈরি নিয়ে রাজ্য ও রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের মধ্যে জটের কারণে কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকায় ওই রুট চালু করা যাচ্ছে না। ওই এলাকায় পিলার বসানোর জন্য তিন দিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত যান নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব রাজ্যকে দিয়েছিল আরভিএনএল। কিন্তু রাজ্য তাতে রাজি না হওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় আরভিএনএল। হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য ও আরভিএনএল সহ সব পক্ষকে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দু’বার বৈঠক হলেও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি।
১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষের নির্দেশ (Chingrihata Metro)
গত ২৩ ডিসেম্বর, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং অজয় কুমার গুপ্তর বেঞ্চ ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেট্রোর কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে কোন তিন দিন যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা আলোচনা করে গত ৬ জানুয়ারির মধ্যে আরভিএনএল-কে জানিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। কিন্তু, আদালতের এই ডেডলাইনে আপত্তি জানায় রাজ্য।
রাজ্যের এই যুক্তি মানতে নারাজ আদালত (Chingrihata Metro)
আদালতে তার আগের শুনানিতে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য। অথচ গত ডিসেম্বরের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ২০ ফেব্রুয়ারির আগে যান নিয়ন্ত্রণ করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই উৎসবের মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে। ট্র্যাফিক ব্লক করা হলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বেন। যদিও রাজ্যের এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ ছিল, ভারতবর্ষের মত দেশে উৎসব লেগেই রয়েছে। সেখানে উৎসববিহীন কোনও মরশুম চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এই ‘ট্র্যাফিক ব্লক’ রাতের দিকে মাত্র তিনদিন করতে হবে। ফলে জনস্বার্থে ওই কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি।
আরও পড়ুন: Iran Kashmir: ইরান যুদ্ধে পাশে দাঁড়াল “ইরান-এ-সাগীর”: দেখুন কারা কী কী সহায়তা পাঠাচ্ছেন?
রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা (Chingrihata Metro)
এমনকি, দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাকে রাজ্যের আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা বলে মানতেও অস্বীকার করেন। আর তাতেই রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এই কাজটা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এটা হয়ে গেলে নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো শুরু হয়ে যাবে। এটা যদি জনস্বার্থ না হয়, তা হলে কোনটা জনস্বার্থ হবে?রাজ্যের অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পের খরচও বেড়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে জনগণের টাকার উপরেই। তাই এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি।’



