Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৩ মার্চ ইরান যুদ্ধের ২৪তম দিনে দাঁড়িয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানছে, যার প্রভাব পড়ছে গোটা অঞ্চলে। বহু দেশ এই সংঘর্ষের নিন্দা করলেও কাশ্মীরে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র সেখানে সাধারণ মানুষ ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে নজিরবিহীন মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছেন(Iran Kashmir)।
ঘরে ঘরে অনুদান সংগ্রহ অভিযান (Iran Kashmir)
ইদের পর থেকেই কাশ্মীর উপত্যকায় শুরু হয়েছে ঘরে ঘরে গিয়ে অনুদান সংগ্রহ। স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ, তামার বাসন, এমনকি গবাদি পশুও দান করা হচ্ছে। নারী-পুরুষ-শিশু সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন। এক নারী তাঁর প্রায় ৩০ বছর ধরে সংরক্ষিত সোনা দান করেছেন, যা ছিল তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্মৃতি। আবার কেউ নিজের মোটরবাইক বা গাড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ ইরানের জন্য দিয়েছেন।
সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা ইরানের (Iran Kashmir)
সংগ্রহ করা অর্থ সরাসরি ইরান দূতাবাসের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই মানবিক উদ্যোগে মসজিদ, ইমামবারা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় সংগঠনগুলিও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। এমনকি শিশুরাও তাদের সঞ্চিত পকেটমানি দান করছে। ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, “কাশ্মীরের মানুষের এই সহমর্মিতা আমরা কখনও ভুলব না।”
আরও পড়ুন: Hormuz Crisis: রান্নার গ্যাসের সঙ্কট: সিঙারা থেকে চায়ের লিকার, আমজনতার স্বাদকোরকে টান
“ইরান-এ-সাগীর” (Iran Kashmir)
কাশ্মীরিদের এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র। উপত্যকার বহু মানুষ শিয়া মুসলিম, এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সঙ্গে তাদের গভীর আবেগগত সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি, শতাব্দী প্রাচীন পারস্য সংস্কৃতির প্রভাব কাশ্মীরের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত যার জন্য অঞ্চলটিকে একসময় “ইরান-এ-সাগীর” বা ‘ছোট ইরান’ বলা হতো। এই প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরের মানুষের এই উদ্যোগ শুধু সহায়তা নয়, বরং এক গভীর সাংস্কৃতিক ও মানবিক সংহতির প্রতিফলন।



