Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিহারের রাজনীতিতে যে নাটকীয় উত্থান-পতনের (Chirag Paswan) গল্প বহুদিন ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার সবচেয়ে অধ্যায়টি এখন লিখছেন চিরাগ পাসোয়ান। মাত্র চার বছর আগেও দলের ভাঙন, আত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতা এবং আসন হারানোর ধাক্কায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রায় অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে চিরাগ জানিয়ে দিলেন-তাঁকে খাটো করে দেখা ভুল।
রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যু (Chirag Paswan)
২০২০ সালে রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যু (Chirag Paswan) হয়েছিল। তার কিছুদিনের মধ্যেই এলজেপির ভাঙন ঘিরে প্রকাশ্যে সংঘাত বাধে চিরাগ ও তাঁর কাকা পশুপতি কুমার পারসের মধ্যে। দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির লড়াইয়ে চিরাগকে সরিয়ে দেয় কাকাপক্ষ। পারস পরে এনডিএ জোটে গিয়ে মন্ত্রীও হন। অন্যদিকে চিরাগকে অনেকেই তখন কার্যত শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন। সেই সময়ই তিনি নিজেকে “মোদীর হনুমান” বলে পরিচিত করেছিলেন।

প্রতিশ্রুতিই যেন বাস্তব (Chirag Paswan)
২০২৫ সালে সেই প্রতিশ্রুতিই যেন বাস্তব (Chirag Paswan) হয়ে উঠল। ভোটগণনার দিন দুপুরেই দেখা গেল-এলজেপি (রামবিলাস) এমন এক সফলতা দেখিয়েছে, যা বিহারের জোট-রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে দিয়েছে। চিরাগের লড়া ২৯টি আসনের মধ্যে ২২টিতেই এগিয়ে তাঁর প্রার্থীরা। দলের স্ট্রাইক রেট প্রায় ৭৫ শতাংশ। শুধু নিজের দলকে শক্তিশালী করাই নয়, এনডিএ-কে ২০০-র উপরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বড় ভূমিকা নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।

আরও পড়ুন: Kuldeep Yadav: বিয়ের জন্য চাই ছুটি, গম্ভীরের কাছে কাতর আবেদন কুলদীপের!
এই সাফল্য বুঝতে গেলে ফিরে তাকাতেই হয় ২০২০ সালের দিকে, যখন এলজেপি এককভাবে নির্বাচন লড়ে মাত্র একটি আসন পায়। কিন্তু তখনও দলটি দাবি করেছিল-তাদের ভোট-বণ্টনের ক্ষমতা বহু আসনে ফলাফল বদলে দিতে পারে। পরিসংখ্যান বলেছিল, ২০২০ সালে প্রায় ১২০টি আসনে তৃতীয় প্রার্থীর ভোট জয়ের ব্যবধানে প্রভাব ফেলেছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই ছিল এলজেপির উপস্থিতি। সেই ভোটব্যাঙ্কই এবার চিরাগের নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছে এবং এনডিএর ঝুলিতে গিয়েছে।

এলজেপির ভূমিকা স্পষ্ট
দলের ভিতরে ক্ষমতা হারানোর পর চিরাগ থেমে থাকেননি। সংগঠনে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন, তরুণ ও দলিত নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হাজিপুর থেকে জিতে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন-যা তাঁর জাতীয় পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই শক্তিই যেন পূর্ণতা পেয়েছে। শুধু নিজের দলের জয়ই নয়, বিজেপি ও জেডিইউ-উভয় শরিকের আসন বৃদ্ধিতেও এলজেপির ভূমিকা স্পষ্ট।


