Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার দাবি, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অনড় মনোভাব এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ল শহর কলকাতার একাধিক সরকারি দফতর। খাদ্যভবনের গেটে কোথাও গোলাপ ফুল হাতে দেওয়া হল সরকারি কর্মীদের, কোথাও সরাসরি শুয়ে পড়ে পথ অবরোধ। DA আন্দোলনের জেরে আজ কি তবে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অচলাবস্থার মুখে বাংলা?(DA Agitation)
খাদ্যভবনের সামনে বেনজির উত্তেজনা (DA Agitation)
সকাল থেকেই ধর্মঘটের আঁচ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে খাদ্যভবনের সামনে। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর কর্মীরা ধর্মঘট সফল করতে সরকারি গাড়ি আটকাতে প্রথমে রাস্তার ওপর শুয়ে পড়েন। এরপর, গোলাপ ফুল হাতে সরকারি কর্মচারীদের আহ্বান জানানো হয়। এরপরই, পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ধর্মঘটকে সমর্থন না করে, খাদ্য ভবনের গেটের সামনে এগিয়ে আসেন তৃণমূলপন্থী সরকারি কর্মচারীরা। তৃণমূলপন্থী সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে শুরু হয় দফায় দফায় ধস্তাধস্তি।
সামাল দিতে নাজেহাল পুলিশ
দুপক্ষকে সামাল দিতে নাজেহাল হয়ে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রবি নস্কর নামে এক অবসরপ্রাপ্ত আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, তাঁকে পেটে লাথি মারা হয়েছে। পালটা অভিযোগ তুলেছে শাসকদল পন্থী কর্মীরাও— তাঁদের দাবি, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা তাঁদের গায়ে হাত তুলেছে, তাদেরকে খাদ্য ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, সচিত্র পরিচয় পত্র দেখতে চাওয়া হয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফ থেকে। আবার কেউ বলেছেন, যিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে তার মাথা খারাপ ছিল।
কলকাতা হাইকোর্টে নজিরবিহীন দৃশ্য
ধর্মঘটের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি বিচারব্যবস্থাও। আজ কলকাতা হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল নির্ধারিত সময়ে এজলাসে বসলেও কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনে প্রায় ৭৫ শতাংশ আইনজীবী আজ আদালতে গরহাজির। দুই পক্ষের আইনজীবী না থাকায় শেষ পর্যন্ত এজলাস ছাড়তে বাধ্য হন প্রধান বিচারপতি।
আন্দোলনের আঁচ শহরের কোণায় কোণায় (DA Agitation)
শুধু খাদ্যভবন কিংবা হাইকোর্ট নয়, আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে শহরের কোণায় কোণায়। নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং ও কসবার শিক্ষা ভবনের গেট আটকেও চলে বিক্ষোভ। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উপস্থিতির হার ছিল অত্যন্ত নগণ্য।
আরও পড়ুন: PM Bengal: পশ্চিমবঙ্গ সফরে কোন কোন প্রকল্পের উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী?
কেন এই ধর্মঘট? (DA Agitation)
৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে দ্রুত বকেয়া ২৫ শতাংশ DA মিটিয়ে দিতে হবে। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটিও গড়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার টাকা না মিটিয়ে উল্টে সময় চাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কর্মীরা।



