Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বক্ষণ হাসিমুখ, স্টেজ শোয়ে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি (Debolinaa Nandy), গান দিয়ে হাজারো মানুষের মন জয় এই ছবির আড়ালেই যে এমন ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন লুকিয়ে ছিল, তা কল্পনাও করা যায়নি। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দেবলিনা নন্দী আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টার পেছনে যে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অত্যাচার কাজ করেছে, সেই অভিযোগে এবার মুখ খুললেন তাঁর মা। তাঁর কথায় উঠে এসেছে একের পর এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, অপমান, মারধর এবং সমাজের ভয়।

“বিয়ের পর থেকেই বদলে যায় সব” (Debolinaa Nandy)
দেবলিনার মায়ের দাবি, বিয়ের আগে সমস্ত শর্তই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। গান-বাজনা, অনুষ্ঠান, কাজ সবকিছুর সঙ্গেই তিনি যুক্ত থাকবেন, মাও পাশে থাকবেন, এই শর্তেই বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরেই শুরু হয় সমস্যা। শ্বশুরবাড়ির তরফে বলা হয়, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে না, মাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া চলবে না। দেবলিনার মা বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ। আমি মেয়ের পাশে থাকি। ও মনে করে আমি ওর জন্য লাকি। তাই সব জায়গায় আমায় নিয়ে যায়। কিন্তু ওদের এইটাই সহ্য হত না।”
“সব সমস্যার কেন্দ্রে আমি” (Debolinaa Nandy)
দেবলিনার মা বারবার অভিযোগ করেন, তাঁকে লক্ষ্য করেই অপমান করা হত। কখনও বলা হত তিনি মেয়ের ব্রেনওয়াশ করছেন, কখনও বলা হত তিনি অশিক্ষিত, দেখতে খারাপ, মূর্খ। “আমাকে ভিখিরির বাচ্চা, নিকিরির বাচ্চা এমন ভাষায় গালাগাল দিত। আমি কম পড়াশোনা করেছি ঠিকই, কিন্তু অসভ্য নই।” মেয়ের গাড়িতে উঠলেও সমস্যা, মেয়ের সঙ্গে ঘুরতে গেলেও সমস্যা সব কিছুর দায় যেন তাঁর ঘাড়েই চাপানো হত।

শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ (Debolinaa Nandy)
শুধু মানসিক নয়, প্রচণ্ড মারধরের অভিযোগও তুলেছেন দেবলীনার মা। তিনি বলেন, “ওকে মারত। তবু আমি কখনও বলিনি সংসার ভাঙতে। ধৈর্য ধরতে বলতাম।” ফোন না ধরলে, মেসেজ না এলে তাঁর মনে হত, “এই বুঝি ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।” এই আতঙ্ক নিয়েই দিনের পর দিন কাটিয়েছেন তিনি।
বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ (Debolinaa Nandy)
দেবলিনার মায়ের দাবি, ২০২৪ সালের অগাস্টে প্রথমবার মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আবার ভাদ্রমাসে একই ঘটনা ঘটে। শ্বশুর-শাশুড়ির বক্তব্য ছিল, “তোমরা সেপারেশনে থাকো।” একসময় দেবলীনার বড় দিদির প্রতিবাদে তাঁরা মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন, তবু কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
“সংসার ছেড়ে গেলে সমাজ কী বলবে?” (Debolinaa Nandy)

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশটি উঠে আসে সমাজের ভয় থেকে। দেবলীনা নাকি বারবার বলতেন, “ইন্ডাস্ট্রির মেয়েরা খারাপ এটাই সবাই ভাবে। আমি চলে এলে সবাই আমাকেই দোষ দেবে।” এই ভয়, এই সামাজিক চাপই তাঁকে আটকে রেখেছিল এক ভয়ঙ্কর সম্পর্কের মধ্যে।
পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও অভিযোগ নেওয়া হয়নি (Debolinaa Nandy)
দেবলিনার মা জানান, তাঁরা চন্দননগর থানায় ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি।
উল্টে পুলিশের এক আধিকারিক নাকি বলেন, “দেবলীনাও অপরাধ করেছে, ওর নামেও কেস হবে।” এই অভিজ্ঞতা তাঁদের আরও ভেঙে দেয়।
আরও পড়ুন: Debolina Nandy: স্বামী প্রবাহ নয়, ঘুমের ওষুধ খেয়ে কাকে মেসেজ দেবলীনার?
এখন কেমন আছেন দেবলীনা?
বর্তমানে দেবলীনা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিপন্মুক্ত হলেও মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন।
মায়ের কথায়, “ও কী সিদ্ধান্ত নেবে, সবটাই ওর উপর ছেড়ে দিয়েছি।” সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত স্বামী প্রবাহ বা তাঁর পরিবারের কেউই দেবলীনার খোঁজ নেননি বলে দাবি।



