Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণকাণ্ড ঘিরে তদন্ত (Delhi Blast) যত এগোচ্ছে, একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। বৃহস্পতিবার তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল এবং মূল অভিযুক্ত তথা বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড উমর-উন-নবির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরি। ডায়েরিটিতে সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা রয়েছে একাধিক গোপন বার্তা, যেগুলি ডিকোড করতে পারলেই সামনে আসতে পারে সন্ত্রাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আঁচ।
সূত্রের খবর… (Delhi Blast)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই ডায়েরিতে ৮ থেকে ১২ নভেম্বরের (Delhi Blast) সময়কালকে ঘিরে বিস্তারিত নোট ছিল। বিস্ফোরণ ঘটেছে ১০ নভেম্বর-অর্থাৎ সেই সময়সীমার মধ্যেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে আরও কী পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের? ডায়েরিতে পাওয়া গিয়েছে প্রায় ২৫ জনের নাম, যাদের বেশিরভাগের বসবাস জম্মু-কাশ্মীর ও ফরিদাবাদ এলাকায়। তদন্তকারীদের অনুমান, এই দলটি বহুদিন ধরেই বিভিন্ন শহরে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করছিল।
চারটি শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক (Delhi Blast)
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটজন মূল (Delhi Blast) অভিযুক্ত চারটি শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। প্রত্যেকটি দলে ছিল দুই জন করে সদস্য, এবং প্রত্যেক দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট শহরে হামলা চালানোর। ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে এমন প্রমাণও এসেছে যে, ওই জঙ্গিরা বিভিন্ন শহরে রেকি করেছিল এবং বিস্ফোরণের জন্য একাধিক IED তৈরি রেখেছিল।
পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়
তদন্তে আরও এক নতুন নাম সামনে এসেছে-ডাক্তার আরিফ। কানপুর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে কানপুর ATS। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের দিন শাহিন শাহিদ ও তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আরিফ। ঘটনার পর কানপুর থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: Thursday Astro: ধৈর্য ও সংযমে মিলবে সাফল্য, নতুন সুযোগ আসবে…
‘ডক্টর্স গ্যাং’
এদিকে, দিল্লি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি বড় তথ্য। বিস্ফোরণের আগে ‘ডক্টর্স গ্যাং’ নামে পরিচিত এই দলটি অর্থ সংগ্রহ করেছিল। অভিযুক্ত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, আদিল আহমেদ রাথরে, শাহিন শাহিদ এবং মাস্টারমাইন্ড উমর-উন-নবি মিলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা জোগাড় করে। পরে পুরো অর্থ হস্তান্তর করা হয় উমরের হাতে, যিনি ওই অর্থ ব্যবহার করেন বিস্ফোরণের প্রস্তুতির জন্য।

উমর ও মুজাম্মিলের মধ্যে মতবিরোধ
তদন্তে জানা গেছে, গুরুগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চল থেকে প্রায় ২০ কুইন্টাল এনপিকে সার কেনা হয়েছিল-যার দাম প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এই সার ব্যবহার করা হয় IED তৈরিতে। টাকার হিসেব নিয়ে উমর ও মুজাম্মিলের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দেয় বলে জানা গেছে। এছাড়াও, বিস্ফোরণের আগে একটি এনক্রিপটেড অ্যাপে ২ থেকে ৪ জনের ছোট গ্রুপ তৈরি করেছিল জঙ্গিরা, যাতে পরিকল্পনা ভাগাভাগি করা যায়।
তদন্ত এখনও চলছে
পুলিশের নজরে এসেছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 ও লাল ইকো স্পোর্টস গাড়ি ছাড়াও আরও দু’টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে লালকেল্লা ও তার আশপাশে; আপাতত বন্ধ রয়েছে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনও। তদন্তকারীদের মতে, ডায়েরি থেকে মিলছে একাধিক গোপন সূত্র, যা প্রকাশ্যে আনলে জঙ্গি নেটওয়ার্কের আরও গভীর স্তর উন্মোচিত হতে পারে।


