Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ তদন্তে (Delhi Blast) একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এবার গোয়েন্দাদের জেরায় জানা গেল, মূলত ৬ ডিসেম্বর-বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিনেই দিল্লিতে ছয়টি জায়গায় একযোগে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গি মডিউলটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারিখ পরিবর্তন করে ১০ নভেম্বর করা হয়, যেদিন শহর কেঁপে ওঠে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে।
প্রতিশোধমূলক হামলা (Delhi Blast)
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আটক জঙ্গিদের জেরা করেই এই (Delhi Blast) পরিকল্পনার বিস্তারিত জানা গিয়েছে। তাদের কথায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলা-১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এই ষড়যন্ত্র রচিত হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাঁচ ধাপে এই হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি ধাপই ছিল অত্যন্ত গোপন ও সংগঠিতভাবে সম্পন্ন।
শক্তিশালী বোমা তৈরির পরিকল্পনা (Delhi Blast)
সূত্রের মতে, জৈশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার-ঘাজওয়াত-উল-হিন্দ নামের (Delhi Blast) দুই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই মডিউল দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল। তারা IED তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও বিস্ফোরক পদার্থ সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল। এমনকি প্রাণঘাতী রাসায়নিক ব্যবহার করে আরও শক্তিশালী বোমা তৈরির পরিকল্পনাও ছিল তাদের হাতে।
শেষ মুহূর্তে আবার তারিখ বদল
জঙ্গি দলটি অগস্ট মাস থেকেই এই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রথমে আগস্টেই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি পিছিয়ে ৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। তবে কিছু অজানা কারণে, বা নিরাপত্তা সংস্থার গতিবিধি আঁচ করতে পেরে, তারা শেষ মুহূর্তে আবার তারিখ বদলে ১০ নভেম্বর হামলার দিন ঠিক করে।

প্রতিটি দলে থাকত দু’জন করে সদস্য
তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্য বলছে, দিল্লি ও আশপাশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে টার্গেট করা হয়েছিল-যার মধ্যে ছিল রেলওয়ে স্টেশন, বাজার এবং প্রশাসনিক ভবন। প্রতিটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল আলাদা আলাদা দলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি দলে থাকত দু’জন করে সদস্য, এবং তাদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছিল তৈরি IED ডিভাইস।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্পে ফের অনিশ্চয়তা, কিন্তু কেন?
এই ষড়যন্ত্রের মূল মাথা হিসেবে উঠে এসেছে উমর-উন-নবির নাম, যিনি আগেই বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামলার অর্থনৈতিক জোগান এসেছিল বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে, এবং সেই অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছিল বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল ও রাসায়নিক পদার্থ।
পুলিশের দাবি, তাদের হাতে এখন এমন একাধিক প্রমাণ রয়েছে যা থেকে স্পষ্ট-এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় প্রতিশোধ ও দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। গোয়েন্দারা এখন এই পরিকল্পনায় যুক্ত অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছেন।


