Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার (Desert Village in Tamilnadu) অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম নাড়াগুড়ি, একসময় যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ জনশূন্য। শূন্য ঘরবাড়ি, নির্জন রাস্তাঘাট আর শুনশান নিস্তব্ধতা যেন সাক্ষাৎ মরুভূমির ছবি আঁকে। মূলত পানীয় জলের চরম সংকট এবং ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অভাবেই একে একে সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
নেই পানীয় জলের সুবিধা (Desert Village in Tamilnadu)
গ্রামেরই এক প্রাক্তন বাসিন্দা এক সংবাদমাধ্যমকে জানান (Desert Village in Tamilnadu), শিবগঙ্গা থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই গ্রামে একসময় জীবন ছিল প্রাণবন্ত। কিন্তু গত কয়েক বছরে পানীয় জল সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। জল আনতে দূরের গ্রামে যেতে হত। এইভাবে জীবন যাপন ধীরে ধীরে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের অভাব। এমনকি পল্লী চিকিৎসক বা একটি ছোটো স্বাস্থ্যকেন্দ্রও নেই এই এলাকায়।
নিরাপত্তার ঘাটতি (Desert Village in Tamilnadu)
তবে শুধু প্রাকৃতিক বা সামাজিক সংকটই নয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ভয়ঙ্কর অপরাধের ঘটনাও ভয় ঢুকিয়েছে গ্রামবাসীদের মনে। গ্রামে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়, এবং এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে। নিরাপত্তার ঘাটতি অনুভব করেই গ্রামের বাকি পরিবারগুলি এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
সরকারের হস্তক্ষেপ চান প্রাক্তন বাসিন্দারা
প্রাক্তন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা জেলার শাসক ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন যাতে গ্রামে আবার পানীয় জল সরবরাহ, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁরা চান সরকার হস্তক্ষেপ করে গ্রামটিকে পুনরুজ্জীবিত করুক, যাতে বাসিন্দারা ফিরতে পারেন তাঁদের পুরনো ঘরে।
রহস্যজনক মৃত্যু
এদিকে, একই জেলার তিরুপ্পুভনম এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি পৃথক ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জনমত। মডপুরম কালিয়াম্মান মন্দিরে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন অজিত কুমার। একটি চুরির ঘটনায় তাঁকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়, এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, অজিতের দেহে ছিল ৪৪টি ক্ষতচিহ্ন। কপাল, চোখ, কবজি, পা-কোনও অংশই বাদ যায়নি। এই ঘটনায় প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ মৃতের পরিবারকে ৪০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে একটি ডিভিশন বেঞ্চ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমিয়ে ২৫ লক্ষ করার সুপারিশ করে।
এই দুই ঘটনাই আজ তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং মানবিক সংকটকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। জল, নিরাপত্তা ও ন্যূনতম সুবিধার অভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক গ্রাম এবং আরেকদিকে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা-উভয়ই গভীর চিন্তার বিষয়। এখন দেখার, সরকার এই সংকট সমাধানে কতটা উদ্যোগ নেয়।


