Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই আত্মসমালোচনার পথে হেঁটেছে বঙ্গ বিজেপি (Election 2026)। শুধু হিন্দুত্ব বা মেরুকরণের রাজনীতি বাংলার মাটিতে যে প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি, তা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে বুঝে গিয়েছে। সেই উপলব্ধির ফলেই এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে মানুষের কাছে পৌঁছনোর রূপরেখা তৈরি করেছে বিজেপি।

বিধানসভা ভিত্তিক চার্জশিট (Election 2026)
বঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের পরামর্শেই এই নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি চার্জশিট দু’পাতার, যেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, নিকাশি সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব এই সব বিষয়কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হাওড়ার শিবপুর, পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি প্রতিটি এলাকার বাস্তব সমস্যাকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ২০-২৫টি করে ইস্যু সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে এই দলীয় চার্জশিট।
ঘরে ঘরে প্রচার, নিচুতলার কর্মীদের দায়িত্ব (Election 2026)
এই চার্জশিট শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখছে না বিজেপি। দলের নিচুতলার কর্মীদের দিয়েই বাড়ি বাড়ি বিলি করার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতেই এই উদ্যোগ। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, “মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত ইস্যু সামনে না আনলে বাংলায় রাজনৈতিক লড়াই জেতা সম্ভব নয়।”

একুশের শিক্ষা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা (Election 2026)
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল বুথস্তরে সংগঠনের দুর্বলতা। রাজ্য নেতারা আন্দোলনের ডাক দিলেও সেই আন্দোলন নিচুতলা পর্যন্ত পৌঁছয়নি। এবার ছাব্বিশের ভোটের আগে সংগঠন কিছুটা শক্তিশালী হলেও বুথস্তরে কর্মীদের সক্রিয়তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিজেপি এবার সরাসরি স্থানীয় সমস্যা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হিন্দুত্ব বনাম স্থানীয় সমস্যা (Election 2026)
যদিও শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতারা এখনও নিয়মিতভাবে হিন্দুত্ব ইস্যুতে সরব, তবু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট শুধু মেরুকরণ করে বাংলায় সাফল্য আসবে না। স্থানীয় সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার না হলে ভোটব্যাঙ্ক গড়ে তোলা অসম্ভব। ফলে একদিকে হিন্দুত্বের রাজনৈতিক ভাষ্য বজায় থাকলেও, অন্যদিকে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সামনে এনে দ্বিমুখী কৌশল নিচ্ছে বিজেপি।
‘রাম-বাম জোট’-এর ছায়া? (Election 2026)
এই বিধানসভা ভিত্তিক চার্জশিট এবং ঘরে ঘরে প্রচারের কৌশল অনেকটাই সিপিএমের পুরনো স্টাইলের কথা মনে করাচ্ছে। স্থানীয় সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার, গণসংযোগ, চার্জশিট বিলি সব মিলিয়ে এক ধরনের ‘রাম-বাম জোট’-এর ছায়া দেখা যাচ্ছে বিজেপির প্রচার কৌশলে। আদর্শে বিরোধ থাকলেও, কৌশলে বামপন্থীদের পথ অনুসরণ করতেই বাধ্য হচ্ছে গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুন : Bangladesh: বিএনপির চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান: নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের
বিবেকানন্দের আদর্শে যুব মোর্চার শোভাযাত্রা
এর পাশাপাশি আদর্শিক রাজনীতির জায়গাটিও ফাঁকা রাখতে চাইছে না বিজেপি। সোমবার, ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে ‘বিবেক যাত্রা’ করবে বিজেপির যুব মোর্চা। যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সামনে রেখে শোভাযাত্রার মাধ্যমে যুব সমাজের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।



