Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাত্র পাঁচ বছর বয়স। হাতে বই-খাতা, মুখে নিষ্পাপ হাসি নিয়ে প্রিস্কুল থেকে বাড়ি ফেরা এই হওয়ার কথা ছিল তার একমাত্র দুশ্চিন্তা (USA)। কিন্তু বাস্তবটা হল ভয়াবহ। প্রিস্কুল থেকে ফেরার পরই সেই শিশুকে কার্যত ‘গ্রেপ্তার’ করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যে দেশ নিজেকে “স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের রক্ষক” বলে দাবি করে, সেই আমেরিকাতেই একটি পাঁচ বছরের শিশুকে অপরাধীর মতো ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর ঘটনা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহৃত শৈশব (USA)
প্রিস্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করেছে অভিবাসন দপ্তর। পরিকল্পনাটি ছিল ঠান্ডা মাথায় করা প্রিস্কুল থেকে শিশুটি বাড়ি ফিরবে, তার মাধ্যমেই বাড়ির দরজায় পৌঁছবে অভিবাসন আধিকারিকরা। শিশুটির বাবা দরজা খুলতেই গোটা পরিবারকে আটক করা হয়। এই ঘটনার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হল রাষ্ট্রযন্ত্র এখানে সরাসরি একটি শিশুর নির্ভরশীলতা ও নিষ্পাপতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ডিটেনশন সেন্টারে একরত্তি বন্দি (USA)
আটক হওয়ার পর শিশুটিকে তার বাবার সঙ্গে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায় ভীত, বিভ্রান্ত, বোঝার বাইরে থাকা এক মুখ। প্রশ্ন উঠছে, ডিটেনশন সেন্টার কি আদৌ পাঁচ বছরের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার উপযোগী? আইনের চোখে পরিবারটি “অবৈধ অভিবাসী” হতে পারে, কিন্তু একটি শিশুকে কি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়?

অভিবাসন নীতি বনাম মানবিকতা (USA)
জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে ইকুয়েডর থেকে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিল শিশুটির পরিবার। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির আওতায় পড়েছে তারা। ক্ষমতায় এসেই “Make America Great Again” স্লোগানকে সামনে রেখে ট্রাম্প ভিনদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় একটি দেশকে “মহান” বানানোর প্রক্রিয়ায় যদি শিশুদের শৈশব বলি যায়, তবে সেই মহানতার অর্থ কী?
জনরোষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (USA)
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে আমেরিকার এক বড় অংশের সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ও একটা নিষ্পাপ বাচ্চা। ওকে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে থাকতে দেওয়া উচিত। টোপ হিসেবে ব্যবহার করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো যায় না।” এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং প্রশাসনিক নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এক মানবিক আর্তনাদ।
প্রশাসনের সাফাই বনাম বাস্তব চিত্র (USA)
মিনেসোটার স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কোনও শিশুকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয় না, বরং শিশুর “মঙ্গল” বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। শিশুর মঙ্গল যদি লক্ষ্য হত, তবে তাকে প্রিস্কুল থেকে তুলে এনে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হত না।
আরও পড়ুন: Saraswati Puja Weather 2026: সরস্বতী পুজোয় বঙ্গে ফিরবে ঠাণ্ডার আমেজ? কী জানাল হাওয়া অফিস?
প্রশ্নের মুখে আমেরিকা
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, অভিবাসন প্রশ্নে আমেরিকার নীতির সঙ্গে তার মানবাধিকার-চর্চার গভীর বিরোধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকার নিয়ে নসিহত দেওয়া দেশটি নিজের ঘরেই শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করছে। একটি রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী, তা তার সীমান্তে নয় তার শিশুদের প্রতি আচরণেই বোঝা যায়।



